করোনা নিয়ে আতংক নয়

এম২৪নিউজ ডেস্ক:

যারা সুস্থ, সবল এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো তাদের জন্য করোনা জটিল বা মারাত্মক হয়ে ওঠার আশংকা কম। কাজেই আতংকিত হওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়াটাই জরুরি। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, করোনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বেশিরভাগের বয়স ৬০ বছরের বেশি। ৩০ ভাগ ৫০ থেকে ৬০ বছর। তাই বলে করোনায় কেবল বয়োবৃদ্ধরাই আক্রান্ত হচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। সব বয়সী মানুষই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে। বয়োবৃদ্ধদের পাশাপাশি যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হৃগরোগ, অ্যাজমা, ক্রনিক ব্রংকাইটিস, যকৃতের সমস্যা ইত্যাদি রয়েছে তারাও অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া করোনার সংক্রমণের ঝুঁকিতে আরও রয়েছেন যারা ধূমপান করেন,যারা ফুসফুসে কোনো আঘাত পেয়েছেন, কেমোথেরাপি (ক্যান্সার চিকিৎসা) নেওয়ার কারণে কিংবা অন্য কোনো ওষুধ সেবনের ফলে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। কাজেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সব বয়সী মানুষকেই সতর্ক হতে হবে। মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

করোনাভাইরাস মানব শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ৫ দিন সময় লাগে। প্রথম লক্ষণ জ্বর। তারপর দেখা দেয় হাঁচি ও শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট। বুকে ব্যথা হতে পারে। গভীর বা লম্বা শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। তারপর হতে পারে সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রম। পুরো শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে একাধিক অংগ বিকল (মাল্টি অর্গান ফেইলিয়র) হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। এই ভাইরাসের সংক্রমণের প্রতিষেধক টিকা ও ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা এখনো চলছে। কাজেই ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টাই এখন সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ।

কোনো ধাতব তল বা বস্তু স্পর্শ করার পরপরই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। জামাকাপড়ে এই ভাইরাস প্রায় ৯ ঘন্টা টিকে থাকতে পারে। কাজেই বাইরে থেকে ফিরে হাত ধোয়ার পাসাপাশি কাপড়ও ধুয়ে দিতে হবে। ধোয়া কাপড় রোদে শুকানো ভালো। হাতে বা ত্বকে এই ভাইরাস ১০ মিনিটের মতো জীবিত থাকতে পারে। তাই বারবার সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। নাক-মুখ যতটা সম্ভব স্পর্শ করা এড়াতে হবে। সব সময় মাস্ক পরার দরকার নেই। যাদের করোনায় আক্রান্ত হবার উপসর্গ দেখা দেবে এবং যারা চিকিৎসাসেবা দেবেন তাদের মাস্ক পরা জরুরি।

বয়স্ক ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দিকে নজর রাখতে হবে। করোনা সংক্রমণের এই সময়ে তাদের বাইরে, গণপরিবহণে, জনসমাগমে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে না যাওয়াই ভালো। করোনায় আক্রান্ত রোগীর থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। হাসপাতাল, বাজার ও মেলা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রচুর পরিমাণে ফলের রস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিটি যাতে সহজে হাত জীবাণুমুক্ত করে নিতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। তাকে বারবার হাত পরিষ্কার করার কথা মনে করিয়ে দিন। ডিম কিংবা মাছ-মাংস রান্নার সময় ভালো করে সেদ্ধ করুন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। যেকোনো জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টে দ্রুত আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন (৩৩৩)  করে সাহায্য নিন। (সংগৃহীত)

এম২৪নিউজ/আখতার।