মায়ের স্বপ্ন পূরন করতে চায় ভ্যান চালক তছির উদ্দিনের মেধাবী সন্তান শহিন

দশ হাজার টাকার অভাবে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে।। মেধাবী শিক্ষার্থী শাহিন পাশে জাতীয় ছাত্রসমাজ।। মায়ের স্বপ্ন শহিন প্রশাসন ক্যাডার হওয়ার।।

রংপুর অফিস:

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া বদরগঞ্জ উপজেলার উপজেলার চৌদ্দনং বিশ্নপুর ১নং ওয়ার্ডের বুজরুতবাকবার এলাকার ভ্যান চালক তছির উদ্দিনের ছেলে শাহিন আলম। মায়ের চোখের সমস্যায় ভুগছেন। অন্যের জমিতে ঘর বানিয়ে ছিলেন শাহিনের বাবা, পরে সেখান থেকে বের করে দেয় জমির মালিক। এখন মামার বাসায় থেকে পড়াশুনা করেন। শাহিন আলমরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই একটি ফ্যাক্টারিতে কার করছিলো, করোনা ভাইরাস দেশে আসার পর থেকে বড় ভাই চাকরি হারায়। অর্থের অভাবে বোনের পড়াশুনা করতে পারে নাই।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে ৬৮তম চান্স পেয়েছেন শাহিল আলম। অর্থের অভাবে ভর্তি হচ্ছে পারছেন না শাহিন। তিনি বলেন, আমার মায়ের স্বপ্ন হলো প্রশাসন ক্যাডার হওয়ার। আমি আমার মায়ের স্বপ্ন পূরন করতে চাই। আমি যেনো দেশের জন্য কিছু করতে পারি। আমি যেনো ভালো কিছু করতে পারি। এখন এই পরিস্থিতি বাসা থেকে ১ হাজার টাকা দেওয়ার সামর্থ নেই আমার বাবার। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ১০ হাজার টাকা কোাথায় পাবে।

এরকম খবর শুনে শাহিনের ছুটে আসেন জাতীয় ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। শহিন আলমের পড়াশুনার দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলে নেন মামুন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের সব খানেই মেধাবী শিক্ষার্থী থাকেন তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পরেও ভর্তি হতে পারে না অনেকেই।

তিনি আরও বলেন, শাহিন আলম একজন বেধাবী ছাত্র। শুধু বেগম রোকেয়া নয়, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলেন শাহিন। কিন্তু অর্থের অভাবে কোথাও ভর্তি হতে পারেন নাই। সামান্য কিছু অর্থের কারণে শাহিনের পড়াশুনার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। শাহিনের জীবন থেকে আলো চলে যেতে ধরেছে। আমি শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করি আশ্বস্ত করি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নয় তার বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের সিটের ব্যবস্থা করে দিবো। শাহিন একটি উদাহরণ। এরকম শাহিন বাংলাদেশে অনেক আছে।

আল মামুন আরও বলেন, মেধাবীদেরকে দিয়ে আগামী দিনে দেশকে বিনির্মাণ করার সুযোগ আছে। মেধাবীরা যেনো তাদের আর্থির সমস্যার কারনে যেনো ঝড়ে না পড়ে। সমাজের সচেতন বিত্তশালি আছে তাদের প্রতি আমি আবেদন জানাবো, আমাদের মতো সংগঠনে যারা দায়িত্বে আছি তাদের পক্ষে হয়তো সম্ভব নয়। একজন শাহিনকে হয়তো আমার দেখতে পারবো। কিন্তু অসংখ্য শাহিন সারা বাংলাদেশে তৃনমূল আছে, সব জায়গায় লুকিয়ে আছে মেধাবীরা। তারেকে যেনো স্বচ্ছলতা যাদের পরিবারে আছে তাদেরকে একটু সহযোগীতা করলেই একটি দেশ গড়তেই আমাদের যে মেধাবী প্রয়োজন তারাই এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে বের হয়ে এসে তারাই একদিন সচিব পদে মর্যাদায় যাবেন, একদিন মন্ত্রী হবেন, বড় বড় জায়গায় থাকবেন, তাদের মনে হবে যে অস্বচ্ছলতা মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে সহযোগীতা করলে সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে ভালো পজিশনে নিতে পারবেন। ভালোবাসার পড়শ মেখে স্বপ্নের সাথে যাঁদের নিরন্তর ছুটে চলা, মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছে, বুকে দেশপ্রেম তারাই নতুন দিনের স্মারক হয়ে বদলে দিচ্ছে আমাদের এই দেশকে।

এসময় শাহিন আলম বলেন, আমার বাবা ভ্যান চালক। ছোট বেলা থেকে আমাকে কষ্ট করে পাড়াশুনা করায়। আমার বাবা-মা কখনো বুঝে না যে বিশ্ববিদ্যালয় কি জিনিসি। আমি যখন হোস্টেলে থাকি তখন বুঝতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করলে জীবনে অনেক কিছু করতে পারবো। কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার মতো আমার সামর্থ হয় নাই। বাসায় পড়ে পড়ে আমি প্রথম জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষা দেই, এবং সেখানে চান্স পাই। কিন্তু অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারি নাই। পরবর্তীতে আমি ওখানে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করি আর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম জিএসটি পরিক্ষা নম্বার অনেক পেয়েছিলাম এবং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলাম যেমন- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহা জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে ভর্তির তারিখ পার হয়ে গিয়েছিলো আমি ভর্তি হতে পারি নাই অর্থের অভাবে। এর পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার রেজাল্ট দেয় ১ জানুয়ারি। ফিনান্সিং ব্যাংকিং আসে প্রথমে আমি আমার রেজাল্ট দেখতে পারি নাই। আমার এক বন্ধু দেখে আমায় যানায়। তার পরে আমি চান্স পাইছি এই বিষয়টা বাসায় ভর্তির কথা বলি আমাকে কোন ভাবেই ভর্তির টাকা জোগার করে দিতে পারে নাই।

শাহিন আলম আরও বলে, নুরুল হাদা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বানিজ্য বিষয় নিয়ে পড়ি। এসএসসির রেজাল্ট আসে আমি ৪ পয়েন্ট ৩২ পাই এবং সাধারণ বিত্তি পেয়েছিলাম। এর পরে রংপুর সরকারি কলেজে চান্স পাই। সেখানে এক স্যার আমাকে ভর্তির জন্য হেল্প করে। পরে সরকারি কলেজে পড়াশুনা করি সেখান থেকে ৪ পয়েন্ট ৮৩ পাই। তার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বাসা থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রাম থেকে আমি এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই। আমি চান্স পাওয়ার পরে গ্রামের লোকজন আমাদের সাথে সেরকম কথা বলে না, কোন হেল্পও করে না। সাহায্য করতে আসে না, আমরা অনেককে বলছিলাম কেই পাশে আসে নাই আমার।

চোখে জল জল পানি নিয়ে শাহিন আলম বলেন, প্রথমেই আমি জাতীয় ছাত্রসমাসজের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমি কখনো কল্পনা করতে পারি নাই যে আমার ভর্তির টাকাটা মেনেজ হয়ে যাবে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবো। এরকম কখনো ভাবতেও পারি নাই। এর আগেও আমি অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারি নাই। আজকে এত তারাতারি ভর্তি আমার ভর্তির টাকা মামুন ভাই দিবে আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছি।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply