
নূরুল ইসলাম বরিন্দী:
আজ থেকে বাহাত্তর বছর আগে যেখানে আমার জন্ম হয়েছিল, রংপুরের মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত সেই রাণীপুকুর এলাকার তিন প্রয়াত বিরল প্রতিভাকে নিয়ে অনলাইনে “বর্ষীয়ান কলাম”-এর প্রথম লেখা শুরু করতে যাচ্ছি । পঞ্চাশের দশকে “রংপুর জেলার ভূগোল”-এ পড়েছিলাম ‘রাণীপুকুর একটি শিক্ষিত প্রধান স্থান’। এখন অখন্ড অবসরে কাটছে ঢাকার প্রবাস জীবন। আজ এত যুগ পরে সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই স্মৃতিময় দিন আর দৃশ্যপটগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেলুলয়েডের ফিতার মতো।কর্মময় জীবনে ছিলাম মসিজীবী। তারই ধারাবাহিকতায় কালির আখরে এ লেখার সূত্রপাত।
তাঁর ভালো নাম ছিল মোহাম্মদ ভরসা মিয়া, সংক্ষেপে এমডিবি মিয়া । এলাকায় ভরসা পন্ডিত নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন তিনি । তিনি ছিলেন জ্ঞানতাপস পন্ডিত ব্যক্তি । আর আমরা অনভিজ্ঞ- অর্বাচীন শিক্ষার্থী । খুব কাছে থেকে তাঁকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার । মুখে সাদা ধবধবে দাড়ি। টাকওয়ালা মাথার পেছন দিকে বাবরী চুল। সদা হাস্যমুখ, বেঁটে-খাটো চেহারার ভরসা পন্ডিতকে দেখাতো একজন সাধু-সন্তর মতো। রসিক, গাল্পিক, ভ্রমণবিলাসী , বিদ্যানুরাগী এই মানুষটি ছোট-বড় সবার কাছে ছিলেন খুবই শ্রদ্ধার পাত্র। দুনিয়ায় কিছু কিছু মানুষ আছেন যাদের ভোলা যায় না জীবনভর। ভরসা পন্ডিতও ছিলেন আমার কাছে এমনি একজন না-ভোলা মানুষ। এলাকায় শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত লোকদের মধ্যে শিক্ষানুরাগ ও জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাধনা ও প্রতিকূল পরিবেশের সাথে প্রায় এককভাবে ও প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি পাঠাগার। নাম ছিল “রাণীপুকুর আদর্শ পাঠাগার”। মুর্শিদাবাদের তৎকালীন জমিদার মহারাজ জগতপৎ সিং দুগড়ের নায়েব পঞ্চানন সরকারের (১৯৫৪ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে ইনি ভারতে চলে যান) ভগ্নপ্রায় কাছারীবাড়ির এককোণায় ছিল এর অবস্থান। গ্রাহক চাঁদা ছিল মাত্র চার আনা। দিনে দিনে তিনি পাঠাগারটিকে সমৃদ্ধ করে তোলেন নানান ধরনের দুষ্প্রাপ্য সব বই-পুস্তকের সমাহারে। কলকাতা থেকে আসত বিভিন্ন বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা। একটি গ্রাম্য পাঠাগারে এত বিপুল পরিমাণ বইপত্রের সমাহার সত্যিকার আর্থেই ছিল বিরল। গ্রাম্য আত্মীয়তার সূত্রে আমি তাঁকে দাদু বলে ডাকতাম। তাঁর উদ্যোগ এবং প্রেরণায় রাণীপুকুর আদর্শ পাঠাগারের সদস্য হয়ে বই পড়ার সূত্রপাত আমার। পরবর্তীতে এ অভ্যাস নেশায়, এমনকি পেশার ক্ষেত্রেও পরিণত হয় ।
ভরসা পন্ডিত সাহেবের স্বভাব ছিল বাউন্ডুলে প্রকৃতির। সেই ছোটবেলা, ছাত্রজীবনে কুন্ডি হাইস্কুলে পড়ার সময় থেকেই ‘ঘর পালানো ছেলে’ হিসাবে পরিচিত হন সবার কাছে। তাঁর এ স্বভাবের সমগোত্রীয় ছিলেন সতীর্থ আরও দুজন। এঁরা হলেন রাণীপুকুর গ্রামের সদর উদ্দিন মন্ডল এবং রূপসী গ্রামের রইস উদ্দিন আহমদ। পরবর্তী জীবনে ভরসা পন্ডিত ও রইস উদ্দিন আহমদ রাণীপুকুর হাইস্কুলের শিক্ষক এবং সদর উদ্দিন মন্ডল রাণীপুকুর ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও জেলা আদালতের জুরি বোর্ডের সদস্য হন ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণদামামা যখন উপমহাদেশেও বেজে উঠছে, বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যখন চলছে স্বরাজ আন্দোলন, তখন এই তিন তরুণের দেহে বইছে যৌবনের টগবগে রক্ত। অস্থির মতির এই তিন তরুণ সতীর্থ বাড়ি-পালিয়ে কতবার যে পাড়ি জমিয়েছেন নতুন নতুন অ্যাডভেঞ্চারের সন্ধানে—প্রায় সারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে, তার গা শিউরানো কাহিনি শুনেছি পন্ডিত সাহেবের মুখে।
একবার তিন বন্ধু বাড়ি থেকে পালিয়ে আসাম, কলকাতা, মাদ্রাজ, বাংগালোর, লাখনৌ ঘুরে দিল্লী যান। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর বাড়ির জন্য মন কেঁদে উঠলে কলকাতা হয়ে আবার ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসেন। কলকাতায় তাঁরা নাকি ভালো মাইনের চাকরিও পেয়েছিলেন ডকইয়ার্ড ও রেলওয়েতে। কিন্তু ওই যে, বাংগালির ছেলের ঘরের টান! পরবর্তী জীবনে এঁরা তিনজন যখন একত্রিত হতেন তখন সেই ভুলের মাসুলের জন্য একে অপরের সামনে নাকি গাল পেতে দিতেন আর বলতেন -“তুই মোর গালোত থাপড় মার, মুঁই তোর গালোত থাপড় মারোঁ !
শিক্ষকতা জীবনের ফাঁকে ফাঁকে পরিণত বয়সে ভরসা পন্ডিত সাহেব তাঁর সারাজীবনের প্রচুর অভিজ্ঞতাকে ধরে রাখেন “ দিল্লীযাত্রীর ডায়েরিতে”। আট খন্ডে সমাপ্ত এই দিল্লীযাত্রীর ডায়রিতে শুধু ভারত বা দিল্লী ভ্রমণের ইতিবৃত্তই তুলে ধরা হয়নি, এ ডায়েরিতে স্থান পেয়েছে পন্ডিত সাহেবের পরিবারসহ গোটা অঞ্চলের প্রধান প্রধাব ঘটনা, জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ ইত্যাদির কোষ্ঠী। এলাকার শিক্ষিত, অশিক্ষিত মানুষজন প্রয়োজন হলে ছুটে যেত পন্ডিত সাহাবের কাছে। তিনি তার ডায়েরি ঘেঁটে সন-তারিখ উল্লেখসহ বলে দিতেন তাদের পারিবারিক ইতিবৃত্ত। ভাষার সুনিপুণ ব্যবহার এবং সাহিত্যরসের সংযোজনসমৃদ্ধ “দিল্লীযাত্রীর ডায়েরি” না পড়লে বোঝা যেত না ভরসা পণ্ডিত কত বড় মাপের প্রতিভাধর ব্যক্তি ছিলেন। তার এই বিশাল গ্রন্থের পান্ডুলিপি আজও সংরক্ষিত রয়েছে কি-না তার ছেলেদের কাছে অত্যন্ত সযত্নে, আমার জানা নেই ।
আরেকজন বিরল প্রতিভার মানুষ ছিলেন মুন্সী আব্দুল গফুর। লোককবি বা স্বভাব কবি এই মানুষটি ছিলেন একাধারে মসজিদের ইমাম, কাব্য রচয়িতা, সুকন্ঠের পুথিপাঠক, শিক্ষকতা পেশায় জড়িত। তাঁর বাড়ি ছিল রাণীপুকুরের লালচন্দ্রপুর গ্রামে। শিক্ষকতা করতেন রইছ উদ্দিন আহমদ মিয়া প্রতিষ্ঠিত নুরপুর জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়ে। বহুমুখী প্রতিভার এই মানুষটিও ছিলেন বাউন্ডুলে প্রকৃতির। যৌবন বয়সে গিয়েছিলেন আসামের কামরূপ কামাক্ষায়, তন্ত্রমন্ত্র শেখার জন্য। যোগ সাধন, কালী সাধন প্রভৃতি তান্ত্রিক সাধনায় কিছুকাল কাটিয়ে পরে ওসবে বিশ্বাস হারিয়ে মনোযোগ দেন ধর্মচর্চার দিকে । বিভিন্নমুখী প্রতিভার অধিকারী হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন এলাকায়। তার সুললিত কন্ঠের পুথিপাঠের আসরে জঙ্গনামা, শাহনামা, বিষাদ সিন্ধু শুনতে আসতো দূর-দূরান্তের গ্রামের মানুষ। উদার, দরাজ কন্ঠে পুথিপাঠে পারদর্শী মুন্সী সাহেবকে আমন্ত্রণ জানাতো ভিন গাঁইয়ের মানুষজন। তাঁর স্বরচিত কবিতা ও পুথিপাঠের আসর বসতো রাতের বেলা হেজাগ লাইট জ্বালিয়ে।
১৯৪৩ সালে বাংলায় যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি রচনা করেছিলেন “পঞ্চাশের আকাল” নামে একটি কবিতার বই। ক্ষুদ্র আকারে ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত সেই কবিতার বইখানি মানুষের মুখে মুখে পঠিত হতো গ্রাম-গঞ্জে, হাটে-বাজারে। ’৫০ সালের দুর্ভিক্ষের ওপর রচিত “পঞ্চাশের আকাল” কবিতার বইখানি মুন্সী সাহেবকে প্রভুত খ্যাতি এনে দেয়। নাট্যাভিনয় ও পরিচালনায়ও ছিলেন পারদর্শী । ‘বাংলার পতন’ নামে (লেখকের নাম মনে নেই) একখানি নাটক মঞ্চায়িত হয় তার পরিচালনায় নূরপুর বালিকা স্কুলের ছাত্রীদের দিয়ে। তখন অন্যদের সাথে ওই মঞ্চায়িত নাটকের ক্ষুদে দর্শক ছিলাম আমিও । ছন্দময় বাক্য আর বলিষ্ঠ শব্দের প্রয়োগে অদ্ভূত ব্যঞ্জনাময় সংলাপগুলোর কিছু কিছু অংশ এখনও আমার মনে আছে। এখানে তা উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। পলাশীর যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের চক্রান্তে নবাব সৈন্যরা যখন বিপর্যস্ত, পলায়নপর, তখন বিশ্বস্ত সেনাপতি মোহনলাল নবাব সিরাজুদ্দৌলার কাছে যে আর্জি পেশ করছেন সেই সংলাপের কিছু অংশঃ “একি ভুল, একি ভ্রান্তি প্রভু, বীরবক্ষে আজ কী হেতু হয় ভীতির সঞ্চার! সম্ভব টলিবে হিমাদ্রীর চূড়া, আকাশের চন্দ্র-সূর্য পড়িবে খসিয়া , সম্ভব সমুদ্রের বারিবিন্দু শুকাবে নিমেষে, অসম্ভব, অসম্ভব মোহনের বীরবৃন্দ সেনা হবে রণশ্রান্ত! চাহে ভৃত্য অনুমতি, আত্মঘাতী আজ্ঞা প্রভু করো প্রত্যাহার, নচেৎ এদেহে আর না রাখিব প্রাণ, নিজ হস্তে প্রজ্বলিত করি চিতানল, পলাশী শ্মশানে কঠোর কর্তব্য মম করিব পালন!”-
স্কুলের মেয়েদের দ্বারা অভিনীত নাটকটি অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছিল সে সময় ।
স্বভাব কবি মুন্সী আব্দুল গফুর সাহেবের আরেক আশ্চর্য সৃষ্টি ও কীর্তি ‘প্রেমের তরী’ ও ‘প্রেমতরঙ্গ’ নামে দুখানি সুপাঠ্য পুথি। পারস্য উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত এই পুথিসাহিত্যের বিশাল পান্ডুলিপি পঠিত হতো হাট-বাজারে ঢোল-সোহরত করে। রংপুর কারমাইকেল কলেজের তৎকালীন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কবি মোফাখখারুল ইসলাম তাঁর প্রীয়ছাত্র আখতার-উল-আলমের (পরে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক/স্থান-কাল পাত্র কলাম লেখক) মাধ্যমে মুন্সী সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করেন তাঁর বাড়িতে গিয়ে। মুন্সী সাহেব তখন দুরারোগ্য পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত, প্রায় বাকশক্তিহীন, শয্যাশায়ী। মুসলিম লোকজ ঐতিহ্যসন্ধানী গবেষক অধ্যাপক কবি মোফাখখারুল ইসলাম সাহেব মুন্সী আব্দুল গফুর সাহেবের সৃষ্ট সাহিত্যসম্ভার পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর গবেষণার জন্য নিয়ে যান বাংলা একাডেমিতে প্রদানের জন্য। এতদিন পরে সেগুলো আজ কোথায়, কোন লোকজ সাহিত্যকর্মী গবেষকের বাস্কেটে পড়ে রয়েছে সে খবর জানেন না প্রয়াত স্বভাবকবি মুন্সী আব্দুল গফুর সাহেবের উত্তরাধিকারীরা। মোফাখখারুল ইসলাম সাহেব পরে অবসরকালীন জীবনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তোবা হদিস পাওয়া যেত ওইসব পান্ডুলিপির।
আরেকজন বিরল প্রতিভার অধিকারী গ্রামবাংলার কীর্তিসন্তান হলেন ‘প্রেমরত্ন’ কাব্যগ্রন্থ রচয়িতা বদরগঞ্জের লালবাড়ি গ্রাম নিবাসী কবি জামাল উদ্দিন। গ্রামবাংলায় বাংলা ভাষার এমন সুপন্ডিত প্রতিভাধর কবির সন্ধান পাওয়া যায় কদাচিৎ। তাঁর ‘প্রেমরত্ন’ এমনই একটি উঁচুমানের কাব্যগ্রন্থ যা সুশিক্ষিত বাংলাভাষীদের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হতো। এটি প্রকাশিত হয়েছিল সম্ভবত চল্লিশের দশকের শেষের দিকে। অধ্যাত্ম বা সুফিতত্ত্বের ভাবগাম্ভির্যে, বাংলা-সংস্কৃত শব্দের যথাযথ প্রয়োগে ‘প্রেমরত্ন’ কাব্যকে এক অনন্যসাধারণ দলিল হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। তৎকালে উত্তরবঙ্গ-এর ঘরে ঘরে শিক্ষিত সমাজে ‘প্রেমরত্নে’র সমাদর দৃষ্টে তাজ্জব হতে হয়। আজ এতদিন পরেও সেই কবেকার পঠিত ‘প্রেমরত্নে’র বহু চরণ আমার কন্ঠস্থ রয়েছে। এখানে কিছু চরণ উদ্ধৃত করছি:
“কুসুম্ব ভুবন মাঝে, তপালয় আছে/তারই মধ্যে গেল কন্যা।/দ্বার বন্ধ করি, বিরহিনী নারী/কান্দিছে প্রিয়ার জন্যা। /হে প্রিয়া নির্দয়, কঠিন হৃদয়, পাষাণে বান্ধিছে হিয়া।”
অন্য আরেকটি চরণ:
“বৈদেশেতে প্রাণ যায়/বার্তা না পাইল মায়/ মার লাগি শোকে প্রাণ ফাটে ।/ না কান্দ না কান্দ আর /দয়া হবে করতার/দীনহীন জামাল উদ্দিন বলে।”
আরেকটি উদ্ধৃতি:
“দীন বন্ধু পিতা মোর/দীন বন্ধু স্বামী/অবিভাতে গর্ভে ধরি দিনমণি আমি”।
কী অভূতপূর্ব ভাষাশৈলী এবং তার প্রয়োগ! কী অদ্ভূত আশ্চর্য ভাবব্যঞ্জনাময় বাক্যের অভিব্যক্তি কবিতার চরণগুলোয়। অন্যসব পুথির মতো পয়ার, ত্রিপদীর ব্যবহার থাকলেও ‘প্রেমরত্নে’ রয়েছে অনুপ্রাস, মাত্রাবৃত্ত ছন্দ এমনকি অমৃতাক্ষর ছন্দের তাল-লয়ও দৃশ্যমান। সবচেয়ে বড় কথা হলো গ্রন্থটিতে ভাবগম্ভীর আধ্যাত্মিকতার সুর এত অতুলনীয়ভাবে ধ্বনিত হয়েছে যে, সাধারণ পাঠকের কাছে এর অন্তর্নিহিত ভাব হৃদয়ঙ্গম হয় না সহজে, কিন্তু বারংবার পাঠের তাগিদ যোগায়। ‘প্রেমরত্ন’ আজ আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। এ প্রজন্মের কেউ জানেও না বলে আমার ধারণা ।
ভরসা পন্ডিত, মুন্সী আব্দুল গফুর আর জামাল উদ্দিন—এই ত্রিরত্ন লেখক-কবি আজ বিস্মৃতির অতলে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছেন বা গেছেনই বলা যায়। আমাদের প্রজন্মের মধ্যে যদিও এঁরা স্মৃতি-নির্ভর হয়ে আছেন, কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এঁদের গৌরবময় প্রতিভার চিহ্নকে ধরে রাখার মতো কোনো কিছু থাকবে না এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় ।
বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের কত বিরল প্রতিভা যে এমনিভাবে অবহেলায়, অনাদরে, সুযোগের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়, কালের অতলান্তে হারিয়ে যায় সে হিসাব কে রাখে ? এই আধুনিককালের নব্যশিক্ষিত সমাজের ক’জনইবা এইসব অবহেলিত প্রতিভাকে খুঁজে বের করার গরজ অনুভব করেন।
নূরুল ইসলাম বরিন্দী,
ই-মেইল: nibarindi@gmail.com