শাহীন মন্ডল, মিঠাপুকুর (রংপুর):
পিতা-মাতা, বড় বোন ও কলেজ ছাত্র হৃদয় ৪ সদস্যের পরিবার। কৃষক পিতার সল্প আয়ে সংসারে যখন টানাপোড়েন চলছিল, দারিদ্র যাখন নিত্য সঙ্গী। অভাব আর অনাটনের মধ্যে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ঠিক সে সময়ে শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি কোয়েল খামার গড়ে তুলে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন কলেজ ছাত্র হৃদয় আহমেদ।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১০ নং বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের শাল্টির হাট সংলগ্ন হেলেঞ্চা গ্রামের এই তরুণ এখন অনেকের অনুপ্রেরণা।
২০২২ সালে যখন অর্থের অভাবে লেখা পড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম ঠিক তখনি লেখাপড়ার পাশাপাশি মাত্র কয়েকটি কোয়েল নিয়ে খামার শুরু করেন হৃদয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে তিনি খামারের পরিসর বাড়িয়ে আজ তার খামারে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ১, হাজার ৪০০টি ডিম। এসব ডিম থেকেই ৪৮ হাজার টাকা মুল্যের একটি নিজস্ব ইনকিউবেটরের মাধ্যমে বাচ্চা ফোটানো হচ্ছে, যা বিক্রি করে তিনি মাসে গড়ে অন্তত ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন।
বর্তমানে তিনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ি সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। পড়ালেখার পাশাপাশি খামার পরিচালনার কাজ করে পুরো সংসার পরিচালনা ও নিজের লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রযুক্তি ও সচেতন ব্যবস্থাপনায় খামারটি ক্রমেই উন্নতির পথে এগোচ্ছে।
হৃদয় আহমেদ জানান, “প্রথমে অনেকে উৎসাহ দেয়নি, কিন্তু আমি মন থেকে চেষ্টা করেছি। এখন আমার এই কোয়েল খামার থেকেই শিক্ষা খরচ চালাচ্ছি এবং পিতা মাতার সংসারে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলতে চাই।” এ জন্য
সরকারি পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন। সরকারী সহায়তা পেলে হৃদয় আহমেদ আরও বড় পরিসরে খামার পরিচালনার পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান। তিনি আশা করেন, এমন উদ্যোগে সরকার এগিয়ে আসবে এবং প্রণোদনা বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াবে।
এমন উদ্যোগী তরুণদের সাফল্য শুধু নিজের নয়, সমাজের অন্যদের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। হৃদয় আহমেদের মতো আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা হয়ে উঠুক—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এম২৪নিউজ/আখতার