
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সদর দূর্গাপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর দাখিল মাদরাসার নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন সন্ধার দিকে মাঠে ফসলি জমির কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে অবশেষে সোমবার (২২ এপ্রিল) মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী বিধবা নারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর গ্রামে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন বিধবা নারী। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও এক মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে নিজের চাওয়া-পাওয়াকে বিসর্জন দিয়ে কষ্টে দিনযাপন করে আসছেন।
ঘটনার দিন শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) ওই বিধবা নারী জয়ন্তীপুর দাখিল মাদ্রাসার পিছনে তার বোরো ধানের জমি পরিচর্যা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন এসময় মাদরাসার নৈশ্য প্রহরী সাইফুল ইসলাম (৪২) তার মুখ চেপে ধরে মাদরাসার একটি রুমের ভিতর নিয়ে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ওই নারী নিজেকে বাঁচাতে চিৎকারে করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। মুহুর্তেই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শতশত লোক মাদরাসা মাঠে জড়ো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন জয়ন্তীপুর দাখিল মাদরাসার সভাপতি ও দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তালুকদার। তিনি অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, সাইফুল নৈশপ্রহরী হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত নারীদের নিয়ে এসে রাত্রিযাপন করতেন। এর আগেও ওই নৈশ্য প্রহরীর বিরুদ্ধে মাদরাসার এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেছিল।
অভিযুক্ত সাইফুলের দাবি মাদ্রাসা মাঠে বহিরাগত যুবকরা রাতে মাদকসেবন করতেন। মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় স্থানীয় মাদকসেবি যুবকরা তার উপর ক্ষীপ্ত ছিলো। ঘটনার দিন ওই যুবকদের চিৎকার চেঁচামেচিতে ভয়ে ওই নারী শ্রেণিকক্ষের একটি রুমে ঢুকে যায়। আমি তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও তারা ভিতরে আটকিয়ে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে এমন অপবাদ রটায়।
জয়ন্তীপুর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি-সাইদুর রহমান তালুকদার জানান, আমরা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতিমধ্যেই ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়েছে। জয়ন্তীপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার সফিউল আজম জানান, ঘটনাটি শোনার পর আমরা জরুরি মিটিং দিয়ে তাকে সাময়িক সাসপেন্ড করেছি। তবে নৈশপ্রহরী সাইফুল ছেলেটা ভালো নয়। এর পূর্বেও নারীঘটিত কেলেঙ্কারি ছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন কাজ মেনে নেওয়া হবেনা।
জয়ন্তীপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট শাফিউল আজম বলেন, মাদরাসার অভিভাবক সদস্যসহ কমিটির লোকজন বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অভিযুক্ত সাইফুলকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়ে সিন্ধান্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, বিষয়টি ধর্ষণ সংক্রান্ত নয়। তাদের হয়তো পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনায় বিধবা নারী একটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার