মিঠাপুকুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ৩৩ কেভি ভোল্টের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থী গুরুতর আহতের ঘটনায় ফুসে উঠেছে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে আহত শিক্ষার্থীর অভিভাবক। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কোন খোঁজ-খবর নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। আহত শিক্ষার্থী আবির ঢাকায় একটি হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর শরির ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শঠিবাড়ী গোড়বান্দা এলাকায় অবস্থিত ব্যক্তি মালিকানাধীন পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ লাগোয়া ৩৩ কেভি ভোল্টের লাইন চলে গেছে। সেই লাইন সংলগ্ন বিল্ডিং তুলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে স্কুল শেষে কোচিং ক্লাস করার সময় ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবির হোসেনসহ দুই শিক্ষার্থী ৩৩ কেভি ভোল্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। আগুন লেগে যায় আবির হোসেনের শরিরে। অল্পের জন্য রক্ষা যায় অপর শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় আবিরকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান হতে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। রাতে সেখানকার চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শিক্ষার্থী আবির হোসেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিল্ডিং সংলগ্ন ৩৩ কেভি ভোল্টের লাইনটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুল কর্তৃপক্ষ লাইন সংলগ্ন বিল্ডিং নির্মাণ করেছে এবং অরক্ষিত অবস্থায় রেখেছে। ওই লাইনের পাশে নিয়মিত কোচিং ক্লাস হত। ঘটনার দিন আবির লাইনের কাছাকাছি যাওয়া মাত্রই তাকে বিদ্যুৎ টেনে নেয়। গোড়বান্দা এলাকার বাসিন্দা আমিনুর ইসলাম বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। গিয়ে দেখি পাইলট স্কুলের একজন শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক শক লেগেছে। তার গায়ে আগুন জ্বলছে। তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মুলত এটি ঘটেছে। কারণ ওই ৩৩ কেভি ভোল্টের লাইনের পাশে তারা বিল্ডিং তৈরী করেছে ও নিয়মিত ক্লাস নেন। আহত শিক্ষার্থী আবির হোসেনের অভিভাবকের অভিযোগ, ঘটনার পর হতে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্টো শিক্ষার্থীকে দোষারোপ করছেন। এ পর্যন্ত কোন খোঁজ-খবর রাখেনি তারা। আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আখলাক হোসেন বলেন, সেখানে নিয়মিত ক্লাস হয়। কোনদিন দূর্ঘটনা ঘটলনা। ওই শিক্ষার্থী লাইনের কাছে যাওয়ায় দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেবুল হোসেন বলেন, অহত ওই শিক্ষার্থীর শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গেছে। আমরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। পরে জানতে পারলাম তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের কোন অনুমোদন নেই। তারা কিভাবে শিক্ষা কর্যক্রম চালাচ্ছিল তা আমার জানা নেই।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply