মিঠাপুকুরে ভাড়াটিয়া সেজে বাড়ি দখলের চেষ্টা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষক দম্পত্তি ।। 

স্টাফ রিপোর্টার:

মিঠাপুকুরে বাসা ভাড়া নিয়ে বেদখলের চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন শিক্ষক দম্পত্তি। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মিঠাপুকুর থানার পূর্ব পাশে একটি আবাসিক বাসায় সাংবাদিক সমস্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিশ্চিন্তপুর ছমিয়ন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ্ মো. নুরুল রওশন। তিনি লতিবপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর সাথে ছিলেন স্ত্রী মির্জাপুর কাদেরিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক কাওছারী আক্তার কল্পনা।

জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ্ নূরুল রওশন বলেন, উপজেলা সদরের চিথলী দক্ষিণপাড়া গ্রামে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে মিঠাপুকুর থানার সামনে আমার সূত্রে পাওয়া ৭৩ শতক জমি রয়েছে। সেই জমির ওপর বসতবাড়ি ও ৪টি দোকানপাট নির্মাণ করি। ২০১৭ ইং সালের ১ ওই বাসা তিনি আব্দুল আলীম মিঠু নামে এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন। তখন শর্ত ছিল- প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা করে ভাড়া পরিশোধ করবেন মিঠু। এবং ৩ বছর পর বাসাভাড়ার মেয়াদ শেষ হলে বাসা ছেড়ে দেবেন। এই মর্মে ৩শ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়েছিল। ওই চুক্তির মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যায়। কিন্তু, বাসা ছেড়ে না দিয়ে তা অবৈধভাবে দখলে রাখেন। এমনকি দোকান ঘরও দখলে নেন।

এরপর ২০২০ সালে ৫ মার্চ বাসা ও দোকান খালি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আব্দুল আলিম মিঠু জামানতের ৫০ হাজার টাকা ফেরত নেন। কিন্তু, এখন পর্যন্ত বাসা ও দোকান ছেড়ে দিতে টালবাহানা শুরু করে। ফেব্রুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর’২০ পর্যন্ত বাসা ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে অস্বীকৃতি জানিয়ে উল্টো বাসার মালিক শাহ্ নূরুল রওশনকে দাপট, ভয়-ভীতি ও হুমকী প্রদান করেন। এ ব্যাপারে রংপুরের পুুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ প্রদান করি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে মিঠাপুকুর থানার ওসি তদন্ত করেন। তিনি আবদুল আলীম মিঠুকে ভাড়া পরিশোধ করে বাসা ছাড়ার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু, ভাড়াটিয়া মিঠু তাতেও কোন কর্ণপাত করেননি।

শিক্ষক দম্পত্তি আরও বলেন, বাসা ভাড়াটিয়ার দুই ছেলে শিবিরের ক্যাডার। তাদের লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডা বাহিনী আমাদেরকে অব্যাহতভাবে হুমকী দিয়ে আসছে। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মিঠু ও তার পরিবার ভাড়াবাসা ছেড়ে দেন এবং আমার বাসার পূর্ব পাশে ছোটভাই নূরুল নেওয়াজ রয়েলের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে স্বেচ্ছায় ওঠেন। কিন্তু, উল্টো তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ আনায়ন করে আমার পরিবার এবং জ্যাঠাতো ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ্ মো. আনোয়ার সাদাত লেমন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ভিক্টরের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়নারানী করছেন। এমতবস্থায় আমরা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এম২৪নিউজ/আখতার