
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরির চেষ্টা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা চোরাই চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। তবে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন থেকে একটি বস্তাভর্তি পণ্য নিয়ে পলাশ মিয়া নামে এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে বাইরে বের হতে দেখতে পেয়ে তার পিছু নেয় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে পৌঁছামাত্র ওই যুবককে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল, সজিব ও রাজু। এসময় বস্তা ফেলে পালিয়ে যান পলাশ। পরে বস্তা খুলে বিপুল পরিমাণ ক্যানুলা, ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ও হ্যান্ডস গেøাবস উদ্ধার করা হয়। এগুলো তাদের জিম্মায় রাখেন ওই স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
অভিযোগ উঠেছে, চুরির সাথে অভিযুক্ত পলাশ মিয়াকে এসব চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দিয়েছেন পরিচ্ছন্নাকর্মী (ধুপি) রঙ্গবালা। ষ্টোর কিপার আবদুল মুহিত চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো রঙ্গবালাকে সরবরাহ করেছেন। এভাবে তাদের সহযোগিতায় চুরি হয়ে যাচ্ছিল বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম।
এ ঘটনায় আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহেদুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. মেসবাহ আহম্মেদ। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
স্টোর কিপার আবদুল মহিত বলেন, ‘কিভাবে বাইরে গেল, বলতে পারছিনা। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’
তদন্ত টিমের প্রধান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘কিভাবে চুরির ঘটনা ঘটলো, তা এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছেনা। তদন্ত চলছে। কারা জড়িত তা বের করে যথা সময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেবুল ইসলাম বলেন, মূল শীকড় বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে অভিযুক্ত চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
এম২৪নিউজ/আখতার