‘বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে’
-
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ শঠিবাড়ী।
রংপুর পল্লী বিদ্যুত-১ এর আওতাধীন মিঠাপুকুর উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং এর গ্যাড়াকলে চরম অশান্তি ও ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ সাধারন মানুষ। বেশি মাত্রায় লোডশেডিং এর কারণে ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। গৃহিণীরা ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে দুরাবস্থায় পড়েছেন। পল্লী বিদ্যুত অফিসের অব্যস্থাপনা এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সাধারন গ্রাহকদের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের প্রতি তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কার্যলয় সুত্রে জানা যায়, শঠিবাড়ী প্রধান কার্যালয় থেকে রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া হয়। প্রতিদিন প্রায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার হয় এই কার্যালয়ে। এর বিপরীতে বরাদ্দ কম আসে।
গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৮ ঘন্টাও বৈদ্যুত থাকছে না। বিদ্যুতের এমন লুকোচুরির ফলে ছোট-বড় কলকারখানাগুলোর উৎপাদন লক্ষমাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক গ্রাহকরাও পড়েছে চরম বিপাকে। রাণীপুকুর এরশাদমোড়ের ব্যবাসায়ী হাসান মিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা কম ছিল। বর্তমানে মাত্রাতিরিক্ত মাত্রায় লোডশেডিং চলছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পল্লী বিদ্যুত অফিসের অব্যস্থাপনা এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সাধারন গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে’। নুরপুর বালিকা ও রাণীপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বেশি মাত্রায় লোডশেডিং এর কারণে ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারছিনা। প্রচন্ড গরমের মাঝে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। উপজেলা সদরের শুভ মিডিয়ার সত্বাধিকারী মাসুদ রানা শুভ ও তুবা টেলিকমের মামুন অর রশিদ বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেটুকু সময় বিদ্যুত থাকে তাও আবার লো-ভোল্টেজ। ফ্যান ঘোরে খুব আস্তে আস্তে। ফ্যানের বাতাসের মাঝেও অনবরত শরীরের ঘাম ঝরে।
উপজেলার বৈরাতি এলাকার বাসিন্দা হাদি রুবেল বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের এমন লুকোচুরি খেলায় মনে হচ্ছে বিদ্যুৎ যায়না- মাঝে মাঝে আসে’। শুধু রুবেল নয়- রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাভুক্ত এ উপজেলার সকল গ্রাহকের একই ভাষ্য। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের এমন লুকোচুরি খেলায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে গ্রাহকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর পল্লী বিদুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার নুরুর রহমান লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘রংপুর গ্রিডে ৩৩ কেভি লাইনে সংস্কারের কাজ চলায় বিদ্যুতের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই সমিতির আওতায় ৫ উপজেলায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ কম পাওয়ায় কিছুটা লোডশেডিং দিতেই হচ্ছে। তবে, খুব দ্রæত বিদ্যুতের এই বিপর্যয় থাকবেনা বলেও জানান তিনি’।