
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূ। স্থানীয় প্রভাবশালীদের অব্যাহত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন তিনি। এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে রংপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাল্টিপাড়া গ্রামের এক সন্তানের জননীকে কয়েক বছর ধরে একই গ্রামের তারিকুল ইসলাম নানাভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারিকুল ওই গৃহবধুবূ প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এভাবে কয়েক মাসের মধ্যে তাদের প্রেম হয়ে যায়। এরই মধ্যে কয়েক স্থানে নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রলোভনে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন তারিকুল ইসলাম। ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই গৃহবধূর স্বামী তাকে তালাক দেয়। এসময় ওই গৃহবধু তারিকুলকে বিয়ের জন্য চাপ প্রদান করে। এতে তারিকুল নানাভাবে টালবাহানা করতে থাকে।
ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বলেন, আমাকে নানাভাবে কু-প্রস্তাব দিত তারিকুল। পরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এ জন্য আমার আগের সংসার ভেঙে যায়। তারিকুলকে বিয়ে প্রস্তাব দিলে সে স্থানীয় নিকাহ রেজিস্টারের কাছে নিয়ে গিয়ে যায়। স্থানীয় প্রভাবশালী সাহেব আলী মেম্বার ও মশিয়ার রহমান বিষয়টি সমাধানের কথা বলে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। পরে টালকাহানা শুরু করেন তারা। এ ঘটনায় রংপুর আদালতে মামলা করলে তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জামাল হোসেন বলেন, ওই গৃহবধূর সাথে প্রতারণা করেছে তারিকুল ইসলাম। সে গৃহবধূর সংসার ভেঙেছে, একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। তারপরও সঠিক বিচার পাচ্ছেন না ওই গৃহবধূ। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি তারিকুল ইসলামের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।
স্থানীয় শাহজাহান কবীর মিটু বলেন, মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভনে একাধীকারবার ধর্ষণ করা হয়েছে। তারপরও সে সঠিক বিচার পাচ্ছেনা। আমরা তারিকুলের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ও সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসার কথা বলে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ধামাচাপার চেস্টা করছে। এ জন্য সঠিক সময়ে ওই গৃহবধূকে থানায় যেতে দেয়নি। অব্যাহত হুমকির মুখে রেখেছে ওই গৃহবধূকে। ওই গৃহবধূ কুলকিনারা হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।
অভিযুক্ত তারিকুল ইসলামের সাথে যোগযোগ করতে একাধিকবার তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সাহেব আলী মেম্বার বলেন, ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। যারা জড়িত তারাই ভাল বলতে পারবেন।
মিঠাপুকুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ রংপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তের ভার পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার