
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরে কমিউনিটি ক্লিনিকের ছাদ ঢালাই দেওয়া হচ্ছে ইটের গুড়া দিয়ে। পাথর ও ইটের গুনগত মানসম্মত খোয়া দিয়ে ঢালাইয়ের জন্য স্থানীয়রা একাধীকবার বললেও কর্ণপাত করেননি প্রভাবশালী ঠিকাদার। কয়েকদফা প্রতিবাদ করেও কোন সুরাহা পাননি স্থানীয়রা। একারণে ফুঁসে উঠেছে তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কাজের মান যাচাইয়ের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর হতে প্রায় সাড়ে ২৫ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে তালিমগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিক। চেংমারী ইউনিয়নের মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এটি নির্মিত হচ্ছে। রংপুরের আলমনগর এলাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এইচএস এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেয়েছেন। নুরুস সাফা আসিফ নামে ঢাকার এক ঠিকাদারকে কাজটি ক্রয় করে দিয়েছেন মিঠাপুকুরের দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তালুকদার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মান কাজ চলছে পুরোদমে। শেষ হয়েছে বেজ ঢালাই ও সিড়ি তৈরীর কাজ। এখন চলছে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠে খোয়া ও বালুর মিশ্রিত করে নির্মান কাজ চলছে। এলাকাবাসির অভিযোগ, ছাদ ঠালাইয়ে পাথর ও গুনগত মানসম্মত পাথর ও খোয়া দিয়ে কাজ করার কথা। কিন্তু, ঠিকাদার খোয়ার গুড়া দিয়ে কাজ করছেন। এলাকাবাসি একাধীকবার সঠিকভাবে কাজ করার জন্য অনুরোধ করলেও কর্ণপাত করেনি ঠিকাদার।
স্থানীয় শফিকুল ইসলাম বলেন, যেদিন কাজ শুরু হয়েছে, সেদিন হতেই নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ কাজ করছেন। আমরা একাধীকবার বাধা দিয়েছি, কাজ হয়নি।
এলাকাবাসী মুকুল মিয়া, আব্দুল হাই ও মানিক মিয়া জানান, দির্ঘদিন ধরে ক্লিনিকটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। এখন নির্মাণ কাজ হচ্ছে, সেটিও ঠিকমত হচ্ছেনা। নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেও সুরাহা পাইনি। প্রভাবশালী ঠিকাদার হওয়ায় এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
নির্মাণকাজে দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার নুরুস সাফা আসিফ বলেন, কাজটি রংপুরের এইচএস এন্টারপ্রাইজ পেয়েছেন। সেটি দূর্গাপুর চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সাইদ ভাই কাজটি আমাকে নিয়ে দিয়েছেন। নির্মাণকাজের গুনগতমান বজায় রাখা হয়েছে। কোন অনিয়ম-দূর্নীতি হয়নি।
মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, নির্মানকাজ দেখভালের দায়িত্ব প্রকৌশলীর। আমি শেষে বুঝে নেব মাত্র। কাজের মান খারাপ হলে, আমি দেখব।
এম২৪নিউজ/আখতার