
রংপুর অফিস:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক বাবলু মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও মালামাল লুট পাটের অভিযোগে আসামী শামিম ওরফে বন্দে শামিমকে আমৃত্যু কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
আজ সোমবার বিকেলে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রাজজ আদালত ২ এর বিচারক তারিক হোসেন এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষনার সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরনে জানা গেছে ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে হামিদপুর বাজারে দোকান করে পল্লী চিকিৎসক বাসায় ফেরার পথে একদল সশস্ত্র ডাকাত পল্লী চিকিৎসক বাবলু মিয়াকে অস্ত্রের মুখে আটক করে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করে। এ সময় সে বাধা দিলে ডাকাতরা পল্লী চিকিৎসক বাবলু মিয়াকে উপযূপরি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। তার আত্মচিৎকারে আশে পার্শ্বের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা চলে যায়।
পরে তাকে গুরতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় পরের দিন সকালে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহত পল্লী চিকিৎসক বাবলু মিয়ার বড় ভাই আমিনুর রহমান বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের করে। বাদী মামলায় কোন আসামীর নাম উল্লেখ করেননি।
পরবর্তীকালে পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে আসামী শামিম ওরফে বন্দে শামিম সহ ৯জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে আসামী শামিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকা ও পল্লী চিকিৎসক বাবলুকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে।
পুলিশ তদন্ত শেষে ৯ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করে। মামলায় ১২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামী শামিমকে দোষি সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন। সেই সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর ৮ আসামীকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি নয়নুর রহমান টফি এ্যাডভোকেট জানান আসামী শামিম পল্লী চিকিৎসক বাবলু মিয়াকে হত্যা ও মালামাল লুট করার কথা স্বীকার করায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে আমৃত্যু কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন এ রায়ে সরকার পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।
অন্যদিকে ৮ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আসামী শামিমের পক্ষের আইনজিবী বায়েজিদ ওসমানী বলেন তার মক্কেল ন্যায্য বিচার পান নি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানান।
এম২৪নিউজ/আখতার