
মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী
বড়বালা (মিঠাপুকুর) থেকে পলাশ মিয়া:
রংপুরের মিঠাপুকুরে টানা বর্ষনের ফলে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান গুচ্ছগ্রাম। উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রােতে পানি নিস্কাষনের ড্রেন সহ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘর ভেঙ্গে গেছে। সেইসাথে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ছড়ান ফাতেমা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি। অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মান এই ভাঙ্গনের কারণ বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান গুচ্ছগ্রামে প্রায় ১১০টি পরিবারের বসবাস। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনের কারণে পানি নিস্কাসনের জন্য নির্মান করা ড্রেনসহ কয়েকটি ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। ড্রেনটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ঘরবাড়ি সহ ছড়ান ফাতেমা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি। ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ির মালিক আনছার আলীর বলেন, ‘আমার একমাত্র থাকার ঘরটি ভেঙ্গে পড়েছে। আর একটু ভাঙ্গলে আমি নি:স্ব হয়ে যাব। পরিবার সহ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হবে। আমি দিনমজুরের কাজ করি। দিন এনে দিন খাই। ভেঙ্গে যাওয়া ঘরটি মেরামত করার মত সামর্থও নেই। কয়েকদিন চেয়ারম্যানকে বলেছি। গরিবের কথা শোনে কে। তিনি দেখতে পর্যন্ত আসেননি’। পাশের বাড়ির নুরনবী মিয়া বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মানের কারনে গ্রামটি আজ ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এবারের ভাঙ্গনে আমার একটি ঘর বিলিন হয়ে গেছে। আরেকটিতে ফাটল ধরেছে। যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। এ পর্যন্ত ৮/১০টি ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। ইউপি সদস্যকে কয়েকবার জানার পরও কোন ব্যবস্থা নেননি’।
৮৯ বছর বয়সের বৃদ্ধ তাহের মিয়া বলেন, ‘বর্ষার মৌসুম এলে আমরা এই গ্রামে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করি। এই গ্রামের ভিতর দিয়ে যে রাস্তাটি চলে গেছে সেটি ফাতেমা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। প্রতিবছর ভাঙ্গনের মুখে পড়ে রাস্তাটি। ভাঙ্গনের ফলে এ পর্যন্ত প্রায় ১০/১২ টি পরিবারের মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছেন না’।
আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে শুধু ফটোসেশনের মধ্যদিয়ে পালিত হলো বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবস
উমর ফারুক নামে আরেক ভূক্তভোগী জানান, ‘২০১৮/১৯ অর্থবছরে ২৪ ফিট ড্রেন নির্মানের জন্য বরাদ্দ হয় ৮০ হাজার টাকা। ড্রেন নির্মানের সময় রড ব্যবহার না করার কারণে ড্রেনটি ফেটে গিয়ে ধ্বসে পড়েছে। আর ড্রেনটি ধ্বসে পড়ার কারণে রাস্তাসহ গ্রামটি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। প্রতি বছর এলাকাবাসীকে এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়’। ওই গ্রামের কলেজ ছাত্র মোর্সেদ মিয়া বলেন, ‘গত কয়েকমাস হয় ড্রেনটি ভেঙ্গে গিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মেম্বারকে বিষয়টি জানানোর পরও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বর্ষার আগেই এর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হয়ত আজ গ্রামবাসীকে ভাঙ্গনের মুখে পড়তে হতো না’। তিনি আরও বলেন, গ্রামের সবাই চাঁদা দিয়ে পাইপ কিনে পানি নিস্কাষনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পানির স্রােতের চাপে পাইপ ভেঙ্গে গিয়ে ময়লা পানি ঘরের মধ্যে ঢুকে যায়। রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ তো আছেই।
ছড়ান ফাতেমা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সুমাইয়া সিমু, ফরিদা ইয়াছমিন ও শারমিন বেগম জানান, তাদের মাদ্রাসায় যাওয়ার একটাই রাস্তা। সেটিও সামান্য বৃষ্টি এলে যাতায়াদের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বর্ষা এলে পানি জমে থাকে পুরো রাস্তায়। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দুরের শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা পর্যন্ত সাইকেল নিয়ে যেতে পারেনা। রাস্তাটি দিয়ে মাদ্রাসায় যেতে অনকে কষ্ট হয়। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
ছড়ান ফাতেমা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সুপার রুহুল আমিন জানান, মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি বারবার ভেঙ্গে যাওয়ায় শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে খুব সমস্যা হয়। বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে নদীতে বড়শি খুঁজতে গিয়ে ডুবে কিশোরের মৃত্যু
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতাউর রহমান বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী ড্রেন নির্মানের কাজ হয়েছে। টানা বর্ষনের ফলে ড্রেনটি ভেঙ্গে গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চেয়ারম্যানের সাথে আমার কথা হয়েছে।
বড়বালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব আলী সরকার বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষার সময় ওই এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। পানি নিস্কাসনের জন্য ড্রেন নির্মান করা হয়েছিল। সেটিও ভেঙ্গে গেছে। বিষয়টি গ্রামবাসী আমাকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলায় কথা বলেছি’। খুব দ্রুত ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা করা হবে বলেও জানান তিনি।
M24news/এসএ