মিঠাপুকুরে তনকা মসজিদে প্রতিপক্ষের হামলায় মুসল্লী আহত, এলাকায় উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মসজিদে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত. ৫ জন মুসল্লী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মোঘল সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ্ সুজার হাতে নির্মিত ঐতিহাসিক তনকা জামে মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময়  এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, মোঘল শাসনামলে সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ্ সুজা উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের তনকা এলাকায় ১৬৩৯ থেকে ১৬৬০ সালে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ হওয়ার আগেই কিছু মুসল্লী মসজিদের বাইরে বের হন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঘেঁচুলিয়া গ্রামের মুসল্লীদের সাথে নিঝাল গ্রামের মুসল্লীদের কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে নিঝাল গ্রামের আবদুর রউফ মিয়ার নির্দেশে তার ছেলে তুহিন, আশরাফুল, তুহিন মিয়া সহ একদল লোক ঘেঁচুলিয়া গ্রামের মুসল্লীদের ওপর হামলা করেন।  এতে, শাকিল মিয়া,  সুমন মিয়া,  মুরাদ হাসান আহত হয়েছেন।  এদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তনকা জামে মসজিদ ও দুই গ্রামের মানুষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

স্থানীয় আবদুল কুদ্দুস, মোজাহিদ, শাহজাহান, মঞ্জুর মিয়া, সাজু মিয়া ও দেলদার হোসেন বলেন,  ঐতিহাসিক তনকা জামে মসজিদের সুনাম নষ্ট করার জন্য নিঝাল গ্রামের লোকজন চেস্টা করছে। তাদের দাপটে আশপাশের গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। আমার নিঝাল গ্রামের মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। অন্যায়ভাবে মসজিদে মারপিট করা হয়েছে।  এটা মেনে নেওয়া যায়না।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম মিয়া ও সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,  তাদের মধ্যে আগে থেকে শত্রুতা ছিলো।  কিন্তু মসজিদে এসে মারামারি করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি থামানোর জন্য।  কিন্তু,  তারা কথা শোনেনি।

লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী মন্ডল বলেন, খবর পেয়ে মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করেছি। দুই পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলেছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন,  এ ধরনের কোনো অভিযোগ এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply