
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও খাবার রাখার অপরাধে দুই ফার্মেসী ও একটি বেকারীতে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর, রংপুর। এসময় ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেকে ডাক্টার দাবি করে জনসাধারনের সাথে প্রতারণা করার অপরাধে মজনু মিয়া নামে এক ডাক্টারের চেম্বার সীলগালা করা হয়।
বুধবার (১৯ জুলাই) সন্ধায় উপজেলার জায়গীরহাটে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ আজাহারুল ইসলাম।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেয়া ব্রিফিং ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , উপজেলার ব্যস্ততম জায়গীরহাটে ভাই ভাই ফার্মেসি নামে একটি দোকান দিয়ে সেখানে নিয়মিত রোগী দেখতেন ডা. মজনু মিয়া। ফার্মেসীর সাইনবোর্ড এবং প্রেসক্রিপশনে ঢাকা শিশু হাসপাতালের জেনারেল মেডিসিন প্রাকটিশনার এবং শিশু বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে নিজের পরিচয় দেন তিনি। এমন পদবী ব্যবহার করে প্রতিদিন বিভিন্ন হাটবাজারে মাইকিংও করা হয়েছিল। কোন রোগী এই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের ওষুধে সুস্থ্য না হলে সেই রোগীকে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়া হতো। এভাবেই সকলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ফার্মেসীর পাশাপাশি ডাক্তারী করে আসছিলেন মজনু মিয়া।
ফার্মেসীটি বাইরে থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দোকান মনে হলেও ভেতরে ছিল জীবনকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ভরপুর। অবশেষে বুধবার সন্ধায় উপজেলার জায়গীরহাটের ভাই ভাই ফার্মেসীতে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আজাহারুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক ঘন্টা ধরে অভিযানে ভাই ভাই ফার্মেসীটিতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। একটি ফার্মেসীতে এতো পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেখে আমরাও বিস্মিত। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণের অপরাধে ভোক্তা-অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে ৫১ ধারায় দোষী সাবস্ত করে ফার্মেসী মালিক মজনু মিয়াকে না পাওয়ায় ওই ফার্মেসী ও চেম্বার সিলগালা ও একই এলাকার রাকিব ফার্মেসীকে সাড়ে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও পাশের লিমা বেকারী নামে একটি কনফেকশনারীতে ভোক্তা স্বার্থবিরোধী অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, যে কোন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় করা অপরাধ। কেউ মেয়াদোত্তীর্ণ পন্য বিক্রয় করলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও ১৬১২১ নাম্বারে কল দিয়েও যেকোনো ভোক্তার স্বার্থবিরোধী অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।
এম২৪নিউজ/আখতার