
স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছিলেন না দরিদ্র পরিবারের সন্তান মেধাবী শিক্ষার্থী আবদুল কাদের। অবশেষে তার এ স্বপ্ন পূরণ করলেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমাতুজ জোহরা। কাদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) নগদ টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি।
কাদের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের মুরারীপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সাইদুল ইসলামের ছেলে। আবদুল কাদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫২২তম হয়ে ‘ইংরেজি ভাষা’ বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে টাকার অভাবে তার ভর্তি হতে পারছিলেন না।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোট বেলা থেকেই কাদের ছিল মেধাবী। কুমরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে তিনি উত্তীর্ণ হন। ২০২০ সালে কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পান। তিন ভাই বোনের মধ্যে কাদের দ্বিতীয়।
কাদেরের বাবা সাইদুল ইসলাম একজন প্রতিবন্ধী। তিনি অতিকষ্টে ধারদেনা করে কাদেরের লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ করতেন। এরই মধ্যে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গত কয়েক বছর ধরে ধার-দেনা করে কোনো রকমে চলছে তার পরিবার। কাদেরের বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘মুই ভাবো নাই বাহে মোর ছইল ঢাকাত চান্স পাইবে। ট্যাকার জন্যে ছইলোক ভর্তি করবের পারো নাই। ইউএনও স্যারোক ধন্যবাদ।’
এদিকে, কাদের এসএসসি পরীক্ষা পাস করার পর থেকে নিজের পড়ালেখা চালাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশনি করাতে শুরু করেন। প্রতিদিন একটি ভাঙা সাইকেল নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে টিউশনি করিয়ে লেখাপড়া করে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ লাভ করে সে। পরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকেন। মেধার যোগ্যতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পান। তবে অসুস্থ্য বাবার পক্ষে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে কাদেরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি।

বিষয়টি জানতে পারেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমাতুজ জোহরা। তিনি সোমবার কাদেরকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তার হাতে নগত ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। সেই সাথে ভবিষ্যতে যে কোন সমস্যা হলে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।
ইউএনও ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, কাদের নামের ওই মেধাবী শিক্ষার্থী নিজে কষ্ট করে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এটা অনেক গর্বের। আমরা যখন জানতে পারলাম সে অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না, ঠিক সে সময় আমি ব্যক্তিগতভাবে তার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছি।
এম২৪নিউজ/আখতার