মিঠাপুকুরে পুলিশের উপস্থিতিতে খুলে দেয়া হলো প্রতিপক্ষের দেয়া ঘেরা

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রতিপক্ষের দেয়া ঘেরাটি পুলিশের উপস্থিতিতে খুলে দেয়া হয়েছে। ঘর থেকে বের হবার পথ টিন দিয়ে বন্ধ করে রাখা ঘেরাটি আফজাল হোসেন ও তার পরিবারের লোকেরা নিজেরাই গতকাল শনিবার বিকেলে পুলিশের সামনেই খুলে দিয়েছেন। ফলে আজিজুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজনরা উম্মুক্ত পথ খুঁজে পেয়েছেন। তবে পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের সমাধানের জন্য বৈঠকে বসবেন এলাকাবাসীদের নিয়ে।

জানা গেছে, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৫নং বালারহাট ইউনিয়নের বুজরুক শেরপুর গ্রামের আফজাল হোসেন ও আজিজুল ইসলাম দুই ভাই ৪২ শতক জমিতে বসবাস করে আসছে।

এদিকে অসুস্থ আজিজুল ইসলামের পুত্র সন্তান না থাকায় বসতভিটার ২১ শতক জমিসহ চাষাবাদীয় আরো কিছু জমি আজিজুল ইসলাম তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও দুই মেয়ে যথা আজমি আক্তার ও অনামিকা উর্মি বরাবরে বিগত ২৫ নভেম্বর ২০১৮ সালে ১৩৭৬০নং হেবাঘোসনা দলিলমূলে হস্তান্তর করেন বলে জানান। আজিজুল আরো বলেন সেই দলিলে সনাক্তকারী স্বাক্ষী হিসাবে সাক্ষর করেন আফজাল হোসেন। পরবর্তীতে আফজাল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারলে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। একের পর এক বিবাদ সৃষ্টি করতে থাকে প্রতিপক্ষরা। এনিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও হয় এলাকায়।

বৈঠকে কোন সুরাহা না হওয়ায় আজিজুল ইসলামের নিকট হতে হেবামূলে প্রাপ্ত জমির মালিক স্ত্রী মর্জিনা ও তার সন্তানেরা চলতি বৎসরের ০৫মে জেলা রংপুরের বিজ্ঞ মিঠাপুকুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রংপুরে উক্ত জমির উপরে বিবাদীগনের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রী চেয়ে অন্য ২২৪/২০২৫নং মোকদ্দমা আনায়ন করেছেন।

অপরদিকে আদালতে মোকদ্দমার বিষয়টি জানার পর আফজাল হোসেন ও তার পরিবার আরোও ক্ষিপ্ত হয়ে মারমূখী অবস্থান নেয় এবং আজিজুল ইসলামের রান্না ঘড়ের বারান্দা সরিয়ে জোর পূর্বক পাকা ঘড় নির্মান করে বলে জানান। মর্জিনা বেগম জানান ঘর থেকে বের হবার পথ টিন দিয়ে বন্ধ করে আবার প্রতিপক্ষরা হুমকি প্রদান করেন। মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের ফলে পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেন গতকাল বিকেলে। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতেই বন্ধ বেড়াগুলো খুলে দেন প্রতিপক্ষরা।

এ বিষয়ে আফজাল হোসেন ও তার স্ত্রী আন্জুয়ারার সাথে কথা হলে তারা হস্তান্তরকৃত জমি আজিজুলের নামে পুনরায় ফেরৎ নেওয়ার দাবি তোলেন।

মিঠাপুকুর থানার এএসআই রমজান আলী জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। দু’পক্ষের লোকজনের সাথে কথা বলার পর আমাদের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের লোকজন ঘেরাটি খুলে দেয়।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply