
নিউজ ডেস্ক:
ঠাণ্ডায় আগাম জাতের আলুর পচন ও গাছ মরায় দিনাজপুরের চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। অপরদিকে বাজারে আলুর দাম ভাল থাকলেও ফলন কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৯০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪০ হাজার ৬৪ হেক্টর জমির আলু। তবে কত হেক্টর জমিতে আলু লাগানো হয়েছে সেই তথ্য দিতে পারেনি কৃষি অধিদফতর।
বিরলের মাঝাডাঙ্গার গনেশ চন্দ্র রায় বলেন, গত বছর ৩৩ শতাংশ জমি চাষ করে ২২ বস্তা আলু পেয়েছিলাম। এবার সেই জমিতে পেয়েছি ১৩ বস্তা আলু।
দক্ষিণ কোতোয়ালির কসবা গ্রামের মফিজুল ইসলাম জানান, দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। এ বছর নতুন আলু প্রতি কেজি ১৫ থেকে ১৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি আলু ফলাতেই খরচ হয় ১৫ টাকার বেশি। দাম কম হওয়ায় তিনি হতাশ।
খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউপির কৃষক আবদুস সামাদ দেড় বিঘা, রফিকুল ইসলাম পাঁচ বিঘা ও শহিদুল ইসলাম তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। বাজার মন্দার কারণে তারাও হতাশ।
প্রতি বছরের ন্যায় এবার বাজার মন্দার কারণে বাইরের ব্যবসায়ীরা আসছেন না। তাই এলাকার ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেয়া দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। ওই দামে আলুর উৎপাদন খরচও উঠছে না।
ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, প্রতি বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলু নিয়ে যাই। কিন্তু এবার সম্ভব হয়নি।
আলু ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বাবলু জানান, আলু ক্রয় আর ভ্যান ভাড়াসহ এক কেজি আলুর দাম পড়েছে ২৩ টাকা। ২৩ টাকা কেজিতেই বিক্রি করতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, কৃষকরা প্রথমে প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছেন। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলু ওঠায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, এ কারণে দাম কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া বাজারে পুরোনো আলু রয়েছে।
তিনি বলেন, এ বছর কৃষকরা আলুর বীজ বেশি দরে কেনায় খরচ বেশি হয়েছে। তবে আলুর দামটা আরেকটু বেশি থাকলে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ত না।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।