
নিউজ ডেস্ক:
বিদ্যালয় থেকে প্রশংসাপত্র নিতে কোনো টাকা খরচ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু হাজার টাকা ছাড়া মেলে না পিইসি পাসের প্রশংসাপত্র। এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে লালমনিরহাট শহরের হাড়িভাঙ্গা এলাকায় আদর্শ ইসলামিক স্কুলের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
জেলার সব প্রতিষ্ঠানে প্রশংসাপত্র বিনামূল্যে দিলেও আদর্শ ইসলামিক স্কুলে প্রশংসাপত্র বিনা রশিদে তিন হাজার টাকা ফি আদায় করছেন বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।
২০১৯ এর পিইসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শতভাগ পাস নিয়ে জিপিএ-৫ পায় ২০ জন। কিন্তু এত টাকা দিয়ে প্রশংসাপত্র সংগ্রহ করতে না পেরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অনেক গরিব শিক্ষার্থীর।
আদর্শ ইসলামিক স্কুল থেকে পিইসি পাস করা শিক্ষার্থী আল আমিন, ইয়াসিন আরাফাত, মুশফিকা জান্নাত দিশা ও জান্নাতুল আশরাফি জুতি জানায়, তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পাস করা প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রশংসাপত্র দাখিল করা আবশ্যক। কিন্তু আদর্শ ইসলামিক স্কুলে প্রশংসাপত্র ফি তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। টাকা নিলেও কোনো রশিদ দেয়া হয় না।
সোহরাব হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার দুই মেয়ে স্বর্ণা ও বন্যা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে পিইসি পাস করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু দুই মেয়ের প্রশংসাপত্র নিতে ছয় হাজার টাকা লাগে। নতুন প্রতিষ্ঠানে প্রশংসাপত্র জমা না দিলে মেয়েদের ভর্তি বাতিল করা হবে।
আদর্শ ইসলামি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এরশাদুল হক বলেন, তিন হাজার নয়, প্রশংসাপত্র বাবদ মাত্র তিনশ টাকা নেয়া হয়েছে। রশিদ না দেয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী বলেন, প্রশংসাপত্রের বিপরীতে কোনো অর্থ নেয়ার বিধান নেই। প্রশংসাপত্রে টাকা নেয়ার বিষয়টি অভিভাবক ও ডিসির মাধ্যমে জেনে আদর্শ ইসলামিক স্কুলের কর্তৃপক্ষকে জবাব দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। তারা সাড়া দেয়নি। তদন্ত করে ডিসির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।