প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ১১ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী

নিউজ ডেস্ক:

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে গত ১১ দিন ধরে বাড়ি ফিরে আসেনি শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আঁখি আক্তার (১৩)। সে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের দিনমজুর নিন্দালু মামুদের মেয়ে। এ ঘটনায় গত ৬ মার্চ ওই ছাত্রীর বাবা নিন্দালু মামুদ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

কিশোরগঞ্জ থানার সাধারণ ডায়েরি ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক করোনা কালিন সময়ে সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান, কোচিং, প্রাইভেট বন্ধ রাখার হয়েছে। কিন্তু কিশোরগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মোঃ সুজন মিয়া করোনা কালিন সময়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে স্কুলের ভিতরে গোপনে ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়া অব্যাহত রেখেছিল। ওই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আঁখি আক্তার ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক সুজনের কাছে প্রাইভেট পড়ত।

স্কুল ছাত্রী আঁখি আক্তারের বাবা দিনমজুর নিন্দালু মামুদ অভিযোগ করে বলেন, গত ৪ মার্চ সকাল ৯ টার দিকে আমার মেয়ে শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজে সুজন মাস্টারের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায় কিন্তু প্রাইভেট শেষে আমার মেয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। আমি ওই শিক্ষক এবং স্কুলের পিয়ন আতু মিয়াকে বিষয়টি অবগত করি। কিন্তু তারা কোন খোঁজ দেওয়াতো দূরের কথা আমাকে আমার মেয়ের একটি ছবিও দিতে চায়নি। পরে ৬ মার্চ কিশোরগঞ্জ থানায় আমি একটি জিডি করি।

এ ব্যাপারে শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক সুজন মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি প্রাইভেট পড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমি একাই প্রাইভেট পড়াই এমনটা নয় আরো অনেক শিক্ষক প্রাইভেট পড়ান। ওই দিন সে আমার কাছে প্রাইভেট পড়তে এসেছিল পরে কোথায় গেছে আমি জানি না। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক বুলবুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতার্ এটিএম নুরুল আমিন শাহ বলেন, করোনা কালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি কোচিং প্রাইভেট সব বন্ধ আছে। তাঁর পরও যদি কোন শিক্ষক সরকারি আদেশ অমান্য করে তাহলে তদন্ত পূর্বক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়ালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, শিশু নিকেতন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ছাত্রী আঁখি আক্তারের নিখোঁজের বিষয়ে তাঁর বাবা একটি সাধারণ ডায়েরি জিডি করেছেন। জিডি নম্বর ২৬৩। তিনি আরো বলেন, নিখোঁজ ওই ছাত্রীর বিষয়ে খোঁজ খবর অব্যাহত রয়েছে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply