আগামী তিন বছরের মধ্যে রংপুর বিভাগ ফিস্টুলা মুক্ত হবে

নিউজ ডেস্ক:

আগামী তিন বছরের মধ্যে রংপুর বিভাগ ফিস্টুলা মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম লেলিন। 

তিনি বলেন, প্রসকজনিত ফিস্টুলা নির্মূলে বিভাগের আট জেলায় কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরই মধ্যে পঞ্চগড় জেলাকে ফিস্টুলা মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ফিস্টুলা নির্মূল করা। আমরা চেষ্টা করছি ২০২৫ সালের মধ্যে রংপুর বিভাগকে ফিস্টুলা মুক্ত ঘোষণা করার।

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী রংপুর জেলা সিভিল সার্জনের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারিগরি সহায়তায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে ল্যাম্ব সপ্তাহব্যাপী এ দিবসটি উদযাপন করছে। বৃহস্পতিবার ছিল সমাপনী আলোচনা অনুষ্ঠান।

পরিচালক (স্বাস্থ্য) জাকিরুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ সমাজে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষত ধাত্রী বা গাইনী তুলনামূলক কম। একারণে প্রসবকালীন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন। এই পরিস্থিতিতে প্রসূতির নিরাপদ প্রসবের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি খুবই জরুরি। অল্পবয়স্ক মায়েরা বেশি প্রসবজনিত ফিস্টুলায় আক্রান্ত হন। এটা মূলত বাধাগ্রস্থ ও বিলম্বিত প্রসবের কারণে হয়ে থাকে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক (স্বাস্থ্য) হাবিবুর রহমান, সহকারি পরিচালক (স্বাস্থ্য) মোহাম্মদ মেজবাউল হাসান, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) আব্দুল মোতালেব সরকার, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শামিম আহমেদ, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রুহুল আমিন, পরিবার পরিকল্পনা রংপুর এর সহকারী পরিচালক এটিএম নাজমুল হুদা,  ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার ডা. অনিমেষ বিশ্বাস। 

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরআরইআই প্রজেক্ট (ল্যাম্ব) ম্যানেজার মাহাতাব উদ্দিন লিটন। ফিস্টুলা রোগ-সম্পর্কিত ধারণাপত্র তুলে ধরেন ডেপুটি পপ্রজক্ট ম্যানেজার ডা. তাহারিমা হোসেন সোনিয়া।

বক্তারা বলেন, ফিস্টুলা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। বিলম্বিত প্রসব, বাধাগ্রস্ত প্রসব, বাল্যবিয়ে ও কম বয়সে গর্ভধারণ, জরায়ুতে অস্ত্রোপচার, অদক্ষ ধাত্রী বা প্রতিবেশীর মাধ্যমে ডেলিভারি করানোসহ সচেতনতার অভাবে ফিস্টুলা রোগ বাড়ছে।

সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, ধাত্রী, শিক্ষক, সংগঠক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ৪০ জন অংশ নেন। ফিস্টুলা রোগ কী, আক্রান্তের কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি, শনাক্তের উপায়, চিকিৎসাসেবা ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply