
রংপুর অফিস:
সেতু নির্মান করার পরেও যাতায়তের একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে সম্প্রতি এক স্কুল ছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়। অকালে ঝরে যাওয়া ছাত্রটির মৃত্যু বেদনা এলাকাবাসীর মাঝে পীড়া দেয় এবং সবার মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পারাপারের সুব্যবস্থার জন্য চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে ধরনা দিয়ে ব্যর্থ হয়।
এলাকার সকল মানুষের সহযোগিতায় কাউনিয়ার গোপীডাঙ্গা-শিমুলতলী নামক স্থানে তিস্তা মরা সতি নদীতে দুই পারের মানুষের যোগাযোগের রাস্তায় স্বেচ্ছা শ্রমে নির্মাণ করা হয় ৩২০ ফুট দৃষ্টিনন্দন কাঠের সাঁকো।
এ পথ দিয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের ঠিকানাবাজার, আলম বাজার, খলাইঘাট, পাগলার হাট, চাংড়া গ্রাম, অপরদিকে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ও শহীদবাগ ইউনিয়নের আরাজি হরিশ্বর, গোপিডাঙ্গা, প্রাননাথচর,চর সাব্দি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ, ২টি হাই স্কুল, ৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও ওই পথ দিয়ে যাতায়ত করে থাকে। গত বছর বন্যায় শিমুলতলী নামক স্থানে রাস্তাটি বন্যার পানির তোরেভেঙ্গে যায়। এতে দ‚র্ভোগে পড়ে এলাকার মানুষ।
গোপী ডাঙ্গা এলাকার স্বেচ্ছা সেবক ও উদ্দ্যোক্ততা ওমর ফারুক, মিনারুল, হানিফ, বেলাল, সাহেব আলী সহ অনেকে এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য তুলে ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ব্যায়ে ৩২০ ফুট দৈর্ঘ্য কাঠের সেতুটি নির্মাণ করে।
সাঁকো উদ্বোধন করেন রাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন, শহীদবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান, বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী, বালাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক দিলদার আলী, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি ফুল মিয়া সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ছিলেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পায়নি।
কাঠের সাঁকো নির্মান কারীদের এখনও প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋন রয়েছে।ঋণ পরিষদে তারা বিত্তবান ও চেয়ারম্যানদের নিকট সাহার্য্য কামনা করেছে। কৃষক শুক্কুর, জেলে নুরুল হক, ব্যাবসায়ী ফারুক হোসেন, শিক্ষক রেজাউল, ছাত্রী শিমুলী, ছাত্র মামুন জানায় নৌকায় করে পাড়াপারে দ‚র্ভোগ কিছুটা কাঠের সেতুতে কমেছে কিন্তু পাকা সেতু না থাকায় কৃষি পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগের শেষ নেই।
কৃষি শষ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত এই এলাকার ধান, পাট, তামাক, আখ, আলু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সব্জি পরিবহন করতে হলে ১০ কিলো রাস্তা ঘুরে হারাগাছের একতা পাকা সেতু দিয়ে পণ্য বিক্রি করতে যেতে হয় বিভিন্ন হাট বাজারে। তখন সময় ও আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে হয় এলাকার কৃষককে। বানিজ্যমন্ত্রীর কাছে এ স্থানে দীর্ঘ ও স্থায়ী একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবীও জানান এই এলাকার ১০ গ্রামের মানুষ।
কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী ও শহীদবাগ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আঃ হান্নান বলেন এখানে একটি দীর্ঘ পাকা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব উপজেলা পরিষদে পেশ করা হয়েছে এবং বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশির দৃষ্টি গোচরে আনা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রæত সেতুটির নির্মান কাজ করা হবে।
কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইাড)মোঃ আসাদুরজ্জামান (জেমি) বলেছেন, আমরা ১২০ মিটার সেতু নির্মানের জন্য প্রকল্প তৈরী করে অনুমোদন ও বরাদ্দের জন্য ঢাকায় এলজিইডির প্রধান প্রকোশলীর নিকট পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই কাজের দরপত্রের আহবান করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার