পীরগঞ্জে করতোয়া নদী থেকে শত শত ট্রাক বালু লুট

অনলাইন ডেস্ক:

বালু তোলা বন্ধে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও প্রভাবশালীরা করতোয়া নদী থেকে প্রতিদিনই শত শত ট্রাক বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। 

নদী থেকে বালু তুলে পাশে মজুদ করে রাখা হয়েছে। বালুভর্তি ট্রাক চলাচল করায় পাকা ও কাঁচা সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। বালু তোলায় আসছে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়বে বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন। 

জানা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর জেলার পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাটের প্রায় ২৫টি গ্রামের ভেতর দিয়ে করতোয়া নদী বয়ে গেছে। নদীটির বিভিন্ন স্থানে বোমা এবং শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের জমি, রাস্তা-ঘাট ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। 

এলাকাবাসী ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা প্রশাসন বালু তোলা বন্ধে মাইকিং করে। মাইকিং করার পরও নদীপাড়েই বালুর মজুদ করে রাখে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। নদীর টুকুরিয়া ইউপির জয়ন্তীপুর ঘাটে নির্মাণাধীন জয়ন্তীপুর ব্রিজের নিচ থেকে বোমা মেশিন দিয়ে বালু তুলে ঘাটেই মজুদ করে রেখেছে। 

বালু ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ জানান, ইউএনও’র কাছে লিখিত কাগজ নিয়ে বালু তুলছি। তবে তিনি ইউএনও’র লিখিত কাগজ দেখাতে পারেন নি। 

শ্রমিকরা জানান, ব্রিজের নিচ থেকে বালু তুলতে নিষেধ করা হয়েছে। টুকুরিয়া ইউপির দক্ষিণ দুর্গাপুর ও বিছনা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের বালু নিয়ে দু’গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের পর উপজেলা প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য বালু তোলা বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করেন। তা না মেনে উপজেলা চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মন্ডলের ভাই মোস্তাফিজার রহমান মানিক এবং উজ্জলের নেতৃত্বে বিছনা গ্রামে বালু তোলে মজুদ করে রেখেছে। 

ভুক্তভোগী গ্রামবাসী জানান, জয়ন্তীপুর ঘাট থেকে গোপীনাথপুর মাদরাসার মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। এখন আর পাকা সড়ক নেই, কাঁচা সড়ক হয়েছে। 

পীরগঞ্জের ইউএনও টিএমএ মমিন বলেন, বালু তোলা বন্ধে মাইকিং করা হয়েছে। যারা বালু তুলছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। টুকুরিয়া ইউপির করতোয়া নদীপাড়ের দক্ষিণ দুর্গাপুর ও বিছনা গ্রামে বালু তোলা বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।