
বদরগঞ্জ (রংপুর):
স্বামী বেঁচে থাকতে কৃষকের জমিতে ফেলে যাওয়া ধান আর ইঁদুরের গর্ত হতে ধান বের করে আনতেন। সে ধানই ছিল তাদের জীবীকার একমাত্র উৎস। দুদিন আগে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তিনি একা। ছনের তৈরি জীর্ণ কুটির তাও আবার ভাঙ্গাচোরা। পৌষের কনকনে ঠাণ্ডা আর হিমশীতল হাওয়া অনায়েসে প্রবেশ করে ঘরটিতে। এই ঘরেই বাস করেন সহায় সম্বলহীন অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ (৭৫)।
বৃদ্ধা লাখরাজির বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার দাপটে কাতর হয়ে ১০দিন আগে মারা গেছেন লাখরাজির স্বামী মিশরিয়া রাউথ। বৃদ্ধার ৩ মেয়ে, ২ ছেলে। সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। আলাদা সংসার তাদের। বৃদ্ধা লাখরাজির স্বামী মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত দুজনেই একত্রে এই জীর্ণ ছনের ঘরে বাস করতেন।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার (৩১ডিসেম্বর) সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে চলে যাই উপজেলা সদর হতে ১০কি. মি. দূরে রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে। শীতের কুয়াশায় মোড়ানো সকালে মিষ্টি রোদের আশায় জবুথবু হয়ে জীর্ণ ছনের ঘরের পাশে বসে আছেন অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ। বয়সের ভারে কোমর বেঁকে যাওয়া বৃদ্ধা লাখরাজি সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে বলে ওঠেন, ‘মোক একটা কম্বল দেন বাহে, এই জারোত মুই আর থাকপার পাওছো না। তোরা দিবার না পারেন, পেপারোত লেখি দেন বাবা, তাইলে কেউ না কেউ মোক একটা কম্বল দেবে। এই ঠাণ্ডাত ১০দিন আগে মোর স্বামী মরি গেইছে। এখন মুই কেমন করি বাঁচিম বাবা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বয়সোতও মুই বয়স্ক ভাতা পাও না। আর কত বয়স হইলে মোক ওরা বয়স্ক ভাতা দিবে?’
এ দিকে, শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে এখনও চোখে পড়ার মত তেমন শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫শত কম্বল। এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের সংখ্যার তুলনায় কম্বলের পরিমান একেবারেই নগন্য।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরণ অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই আবার বিতরণ করা হবে।