
চাষিদের ক্ষতি পোষাতে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার মেনুতে হাড়িভাঙ্গা আম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।।
রংপুর অফিস:
করােনাভাইরাস প্রতিরােধে সরকার ঘোষিত সাতদিনের কঠোর লকডাউনের ফলে আম চাষে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন রংপুর অঞ্চলের আমচাষীরা ওআম ব্যবসায়ীরা। লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে আম বেচাবিক্রির বাজার।
নগরীর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল ও টিভি মোড় এর মাঝামাঝি অবিস্থত অন্যতম হাঁড়িভাঙ্গা আমের আড়ত। বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা তো দূরের কথা জেলার অভ্যন্তরের ব্যবসায়ীরাও তেমন আসছেন না আমবাজারে। ফলে এ বছর হাঁড়িভাঙ্গা আমের সম্ভাব্য ১‘শ৫০কোটি টাকা বাণিজ্য নিয়ে সংশয়ে আছেন আম বেচাকেনার সঙ্গে সম্পৃক্তরা তাই আম পরিবহনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা সহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার সাথে হাড়ি ভাঙ্গা আম যুক্ত করেছেন রংপুর জেলা প্রশাসন। ত্রাণ হিসেবে এ পুষ্টিকর আম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন প্রন্তিক আম চাষীরা। জেলা প্রশাসনও চাষী ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে আম বিপণনে সহায়তার পাশাপাশি ত্রাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন । লকডাউনে ক্ষতি গ্রস্ত কর্মহীন বিভিন্ন পেশার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার সাথে আম দিচ্ছেন তুলে দিচেছ জেলা প্রশাসন।গতকাল বুধবার দুপুরে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে কর্মহীন হরিজন দের হাতে এ সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।
সারাদেশের ন্যায় সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতি বার নগরীর হাঁড়িভাঙ্গা আমের আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, দেড় শতাধিক দোকানে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে হাড়িভাঙ্গা আম। ২০ জুনের পর থেকে হাড়ি ভাঙ্গা আমের কেনা বেচার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি একদম নেই বললেই চলে।
জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ উত্তর পাড়ার বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, অনেক আশা নিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় ৪০০ গাছের একটি হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান লিজ নিয়েছিলাম।গত ২০ জুনের পর বাগান থেকে আম সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। প্রথম পাঁচ-ছয়দিন প্রতি কেজি আম ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু বর্তমানে ক্রেতা উপস্থিতি কমে যাওয়ায় সেই আম প্রায় ১৫-২২ টাকা দামে নেমে এসেছে। মূলত সাত দিনের লকডাউনের ফলে এ অবস্থা হেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমেরংপুর জেলায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এরমধ্যে হাড়িভাঙ্গা আম হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ হেক্টার জমিতে। হাঁড়িভাঙ্গা আমের ফলন ধরা হেয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টন। প্রতি কেজি গড়ে ৫০ টাকা করে হলে উৎপাদিত আমের আনুমানিক মূল্য ১৫০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে করোনার কারণে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনে মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আররাপ হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম চাষীও ব্যবসায়ীরা।
জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আম বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, আমার চার অংশীদার মিলে ১২ লাখ টাকা দিয়ে কুতুবপুর অরুননেসা এলাকায় মৌসুম শুরুর আগেই তিনটি আমের বাগান নিয়েছেন। বাগানে মোট ৮০০ গাছ আছে। করোনাকালীন প্রথম দিকে আমের ভালোই দাম পেয়েছেন। কিন্তু কঠোর দিধিনিষেধ আরোপ করায় সাধারণ মানুষ বাইরে আসতে পারছেনা। ফলে আমের চাহিদা অনেক কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, গত বছর ওই বাগান থেকে তারা সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।এদিকে বাগান থেকে আম কিনে এনে আড়তে বিক্রি করেন এমন একজন রংপুর নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের সাতগাড়া চরববাড়ী এলাকার বাসিন্দা
আজিবার রহমান বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন বাগান ঘুরে একটি পিকআপে করে আম নিয়ে এসে আড়তে বিক্রি করেন। তার বেশির ভাগ আম বাইরে যেত। কিন্তু প্রথম দিকে কয়েকদিন ভালো ব্যবসা হলেও বর্তমানে কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর তার ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন আড়তে ২০০ মণের মতো আম কেনাবেচা হলেও লকডাউন ঘোষণার পর তা কমতে শুরু করেছে বলে একা ধিক আম ব্যবসায়ী দাবি করেছেন। এদিকে আম বিক্রি কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আম পরিবহনে। প্রতি বছর ক্রেতাদের আমের পার্সেল পাঠানাের সুবিধার জন্য আড়তে চার-পাঁচটি কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ তাদের শাখা খুলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পাঠানাের কাজ করে। এদের একটি ওমেক্স কুরিড়ার অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের রাইটার সামসুল ইসলাম লিটন বলেন, গত বছর এ সময়ে প্রতিদিন ১০০ মণ আম বিভিন্ন স্থানে পাঠাতেন। কিন্ত লকডাউনের কারণে এ বছর তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। তিনিসহ মোট তিনজন কর্মচারীর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, রোববার দুপুর পর্যন্ত মাত্রা দেড় মণ আমের বুকিং করছেন। আগে রাত ৯টা পর্যন্ত আমের বুকিং নিতে পারতেন কিন্তু বর্তমানে বিকাল ৫টার মধ্যে কাজ শেষ ভাউনে আমের ক্রতাশূন্য নমেছে দাম। রংপুরের ব্যবসায়ীরা করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মোঃ রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, কয়েক বছর ধরে রংপুর অঞ্চলে বিশেষ করে হাড়ি ভাঙ্গা আম অন্যতম অর্থনৈতিক পগ্যে পরিণত হেয়েছে। কিন্ত করোনার কারণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় আমের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি আম পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান। তিনি মনে করেন আম পরিবহনে ট্রেনের ব্যবস্থা করলে আমের সঠিক মূল্য নিশ্চিত হবে। এছাড়া তিনি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ত্রান কর্মসূচিতে আম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, করোনাকালীন যাতে চাষী ও ব্যবসায়ীরা আমের ন্যায্য মুল্য পান, এজন্য জেলার উৎপাদিত আম ত্রাণ হিসেবে প্রদান করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় আছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার সাথে শুধু ত্রাণ হিসেবে নয় যাতে পুষ্টিকর আম বিভিন্ন সরকারি মেনুতে অর্ন্তভুক্ত করা যায়।এজন্য জেলখানা, শিশু সদন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেরেছেন।
এম২৪নিউজ/আখতার