রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা

রংপুর অফিস:

রংপুরের তিস্তা নদী ভিত্তিক মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন ও তিস্তা চুক্তি সই করাসহ ৬ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তিস্তার দুই তীরের হাটবাজার-বন্দরে ১০ মিনিট স্তব্ধ কর্মসূচি পালন করবে তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর রাজা রামমোহন ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব কথা জানান সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নদী শাসন ও নদীতে পানি না থাকায় খরা, বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে উত্তরের জীবন রেখা তিস্তা নদীর উপর নির্ভর শীল ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। পিছিয়ে থাকা রংপুর অঞ্চলের দারিদ্রতা ও বেকারত্ব ঘোচাতে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। পরে তিস্তা পাড়ের ৫০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরিত দাবিপত্র জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে পাঠানোর দাখিল করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, তিস্তা নদীপারের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য দেশীয় ও আন্তঃদেশীয় ব্যবস্থাপনা জরুরি। দেশীয় ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে “তিস্তা নদী সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরন্দার’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনা গ্রহণ করায় তিস্তাপারের নদীভাঙন ও খরায় জর্জরিত লাখো মানুষ মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং তিস্তা চুক্তি সইসহ ছয় দফা দাবীতে আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর তিস্তা নদীর দুই তীরে ২৩০ কিলোমিটার মানববন্ধন করেছেন। বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু এই উন্নয়ন মানুষে মানুষে এমন কি অঞ্চলে অঞ্চলেও বৈষম্য দূর করতে পারেনি।

রংপুর বিভাগের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার। উন্নয়ন বাজেটে আমাদের বরাদ্দ খুবই কম। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে রংপুর বিভাগের প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের এক শতাংশের কম (০.৯৮ শতাংশ)। এ কারণে সারাদেশে দারিদ্র্যের হার কমলেও রংপুর বিভাগে গড় দারিদ্র্যের হার ৪৬ শতাংশ। সারাদেশে গড় দারিদ্র্য ২০ শতাংশ হলেও তিস্তা তীররবর্তী কড়িগ্রমের এই হার প্রায় ৭১ শতাংশ, লালমনির হাটে ৪২ শতাংশ, গাইবান্ধায় ৪৭ শতাংশ, রংপুরে ৪৩ শতাংশ। বেকারত্বের হার রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি। গোটা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ২৮টির অধিক হাই-টেক পার্ক, বঙ্গবন্ধু স্যটেলাইট-২, গভীর সমুদ্র বন্দর, পদ্মা সেতু, এল এন জি টার্মিনাল, এক্সপ্রেস হয়ে পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্র, মেট্রো রেল, কর্নফুলি টানেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখানেও রংপুর বিভাগের সাথে চরম বৈষম্যই দৃশ্যমান।

রংপুর বিভাগের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আঞ্চলিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। সারাজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন। রংপুর বিভাগের দারিদ্র্য নিরসন ও বৈষম্য ঘোচাতে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন রকম টানাপোড়ন ও জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে । আমরা আশা রুরি সমস্ত সংশয় দূর করে আপনি মুজিব শতবর্ষে ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তিস্তাপারের মানুষের স্বপ্নের মহা পরিকল্পনার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোনের দাবী করেন।

ছয় দফাসমূহ: তিস্তা নদী সুরক্ষায় “মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন। অভিন্ন নদী হিসেবে ভারতের সঙ্গে নির্মাণ। তিস্তার ভাঙন, বন্যা ও খরায় ক্ষতিতগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ। ভাঙনের শিকার ভ‚মিহীনও গৃহহীনদের পুনর্বাসন। তিস্তা নদী সুরক্ষায় বিজ্ঞানসম্মত খনন, মহাপরিকল্পনায় তিস্তা নদী ও তিস্তাতীরবর্তী কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় “কৃষক সমবায় এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলা। তিস্তা নদীর শাখা-প্রশাখা ও উপ-শাখাগুলোর সঙ্গে নদীর পূর্বেকার সংযোগ স্থাপন এবং দখল-দুষণমুক্ত করা। নৌ চলাচল পুনরায় চালু। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা পাড়ের মানুষদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের ৮ জেলার নেতৃবৃন্দের তিস্তা নদী বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম কানু ড. তুহিন ওয়াদুদ, শফিয়ার রহমান, শরিফা খাতুন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

অপর দিকে, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিসাব আদায়, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ ক্ষেতমজুরদের সারা বছরের কাজের দাবিতে রংপুরে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের মানববন্ধন সমাবেশ করেছে। গতকাল ২২ মার্চ বাংলাদেশ ক্ষেত্রমজুর ও কৃষক সংগঠন রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে রংপুর প্রেসক্লাব চত্ত্বরে সকাল ১১টায় মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের জেলা আহবায়ক এবং বাসদ (মার্কসবাদী) রংপুর জেলার সমন্বয়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সাধারন সম্পাদক আহসানুল আরেফিন তিতু, সদস্য এমদাদুল হক বাবু, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন রংপুর জেলার আহবায়ক শাহিদুল ইসলাম সুমন প্রমূখ।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply