
গোলাম মোস্তফা আনছারী:
রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে চলতি রবি মৌসুমে বিভিন্ন উন্নত জাতের গোল আলু চাষ হয়েছে। গোল আলু উৎপান্নের লক্ষ্যমাত্রা ২২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা গুলো হচ্ছে রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিগত মওসুমে রংপুর অঞ্চলের এই ৫ জেলায় ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন উন্নত জাতের গোল আলু চাষ করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় চলতি রবি মওসুমে এসব জেলায় এবারে ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের গোল আলু চাষ করার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী রংপুর জেলায় ৫১ হাজার ৮৪০ হেক্টরে, এর পরই নীলফামারী জেলায় ২২ হাজার ১০ হেক্টরে, গাইবান্ধা জেলায় ৯ হাজার ২২০ হেক্টরে, কুড়িগ্রাম জেলায় ৬ হাজার ৫৯৫ হেক্টরে এবং লালমনিরহাট জেলায় ৫ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ২৯ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব জেলার প্রায় ৯৮ শতাংশ জমির ৯৫ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ সম্পন্ন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান।
আলু রোপণের শুরুতেই টিএসপি সারের সঙ্কট দেখা দেয়। বাজারে এখন ৮০০ টাকার টিএসপি সার এখন ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু চাষীদের দাবী কৃষককে বাঁচাতে সরকার আলু চাষের মওসুমে সার ও কীটনাশকের দাম কৃষকের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে দিকে নজর দেয়ার আহবান জানিয়েছে আলু চাষিরা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান জানান, জেলায় এবারে রেকর্ড পরিমান জমিতে আলু চাষ করা হচ্ছে। চলতি মওসুমে আবাহাওয়া অনুকুলে থাকলে আলুর উৎপন্ন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। বর্তমান যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তাতে আলুর ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা কম রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ছত্রাকনাশক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সেই সাথে কৃষকদের ধৈর্য সহকারে পরামর্শ অনুযায়ী আলুর খেত পরিচর্যা করতে বলা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর অঞ্চলের ঘন কুয়াশার কারণে আলুর ফলন নিয়ে চাষিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিন থেকে শীতের প্রকোপের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পড়ছে। এই কুয়াশা আলুর জন্য ক্ষতিকারক। এতে লেডবøাইড রোগের আশংকা করছেন চাষীরা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এই আবহাওয়ায় আলুর জন্য তেমন ক্ষতিকারক নয়। এটি কাটিয়ে উঠতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে এই আবহাওয়া আলু চাষের জন্য উপকারী হলেও ঘন কুয়াশা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গত কয়েকদিনের শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্বিগ্ন চাষিরা।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত কয়েক দিন ধরে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গতকাল ৪ঠা জানুয়ারী মঙ্গলবার রংপুরে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রী এবং সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এম২৪নিউজ/আখতার