
নিউজ ডেস্ক:
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। এতে জমি হারাচ্ছে কৃষকরা।
নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইটভাটা নির্মাণ বন্ধে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে কয়েক দফা অভিযোগও করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী জমি লিজ নিয়ে ইটভাটা নির্মাণ শুরু করেছেন। অথচ চুক্তির সময় এ সংক্রান্ত কোনো আলোচনাই হয়নি। এ বিষয়ে বারবার প্রতিবাদ জানালেও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের কাছে পাত্তাই পাচ্ছেন না কৃষকরা।
ওই উপজেলার সারপুকুর ইউপির নামুড়ি চন্দ্রপুরের কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের জমিতে বছরে তিনটি ফসলের আবাদ হতো। তাদের সুবিধায় একাধিক সেচ পাম্প স্থাপন করেছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। বেশ সুখেই ছিলেন কৃষকরা। হঠাৎ লালমনিরহাট শহরের নামাটারী এলাকার ব্যবসায়ী এন্তাজ আলী এক একর জমি লিজ নিয়ে ইটভাটা নির্মাণ শুরু করেন। জমির মালিকদের না জানিয়ে জমিতে ভাটার মাটি ফেলেন তিনি। এতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে চাষাবাদে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে কৃষকদের।
ভুক্তভোগী কৃষক সাইদুল ইসলাম মিঠু বলেন, ভাটার পাশেই আমার ৬০ বিঘা জমি। এখানে প্রতি শতাংশে এক মণের বেশি ধান হয়। এখন ইটভাটার কারণে ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমি কয়েকবার অভিযোগ করেও প্রতিকার পাইনি। উল্টো ভাটামালিক বীরদর্পে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী এন্তাজ আলী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সবেমাত্র ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। আগুন জ্বালানোর আগে পরিবেশ অধিদফতরসহ সব বিভাগের অনুমোদন নেয়া হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলী নূর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ফসলি জমির উপর ইটভাটা নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয় না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
লালমনিরহাটের ডিসি আবু জাফর ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ফসলি জমি নষ্ট করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে। এ বিষয়ে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন। দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।
