অপহরণের ৩৮ দিন পর মিলল শিশুর লাশ, মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক:

কুমিল্লার মুরাদনগরে অপহরণের পর মুক্তিপণের ৫০ লাখ টাকা না পেয়ে আবদুর রহমান নামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে হত্যা করেছে তার আপন ফুফা। হত্যার শিকার আবদুর রহমান উপজেলার গাংগাটিয়া গ্রামের মো. ফারুক মিয়ার ছেলে। 

এ ঘটনায়  ওই শিশুর ফুফাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যানুসারে সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার বোড়ারচর এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার বোড়াচর গ্রামের আ. বাতেন বেপারীর ছেলে মো. ময়নাল, আবু মুসার ছেলে ও নিহত শিশু আবদুর রহমানের ফুফা নাজমুল হাসান এবং একই গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রবিউল হাসান। 

ঘটনার ৩৮ দিন পর একটি মোবাইল কলের সূত্র ধরে ছদ্মবেশে পুলিশ মুক্তিপণের টাকা দিতে গিলে অপহরণ চক্রের সদস্যদের হাতে তিন পুলিশ কনস্টেবল সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন এসআই হামিদুল ইসলাম সাইফুল ও কনস্টেবল রুবেল মিয়া। এ ঘটনায় এসআই সাইফুল বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজ ঘর থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় অপহরণ হয় শিশু আবদুর রহমান। এ সময় শিশু আবদুর রহমানের বাবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় পরদিন বাবা ফারুক মিয়া মুরাদনগর থানায় একটি জিডি করেন। অপহরণের কিছুদিন পর শিশুটির বাবা ফারুকের মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রীর নাম্বারে ফোন করে ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন অপহরণকারীরা। 

তারই সূত্র ধরে সোমবার রাত ৮টার দিকে মুরাদনগর সার্কেলের এএসপি মীর আবিদুর রহমানের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হামিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ছদ্মবেশে মুক্তিপণের টাকা দিতে বাখরাবাদ এলাকায় অপহরণ চক্রের দেয়া ঠিকানায় যান। পরে সেখান থেকে মুক্তিপণের সর্বশেষ দাবিকৃত ৪ লাখ টাকা নিতে আসে অপহরণকারী চক্রের সদস্য ময়নাল। টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় এসআই হামিদুল ইসলাম ময়নালকে ধরে ফেললে অপহরণকারী চক্রের অন্য সদস্যরা লাঠি দিয়ে হামিদুল ও এসআই সাইফুলকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় হামিদুল  ইসলামের ডান পা ভেঙে যায়।

কনস্টেবল রুবেল এগিয়ে আসলে ময়নাল তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে পুলিশ সদস্য হামিদ ও রুবেলকে আঘাত করতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে এসআই হামিদের সঙ্গে থাকা বন্দুক দিয়ে ময়নালের পায়ে গুলি করেন। গুলির শব্দ শুনে আরো কিছুটা দূরে থাকা মুরাদনগর সার্কেলের এএসপি মীর আবিদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিন পুলিশ সদস্য ও অপহরণকারী চক্রের সদস্য ময়নালকে মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করান। পরে ময়নালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার রাতেই অপহরণের পর হত্যার সঙ্গে জড়িত নাজমুল হাসান ও রবিউল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।

মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমান বলেন, অপহরণ চক্রের আটককৃত সদস্যদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এসআই সাইফুল বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সাত ধারায় একটি মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর সার্কেলের এএসপি মীর আবিদুর রহমান বলেন, শিশু আবদুর রহমান অপহরণের ঘটনায় আমরা ময়নাল, নাজমুল হাসান ও রবিউল হাসান নামের তিন অপহরণকারীকে আটক করেছি এবং তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শিশু আবদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply