রাত পোহালেই আত্মত্যাগের ‘কোরবানি’

নিউজ ডেস্ক:

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান রবের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে রোববারের দিনটি উদযাপন করবে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়। যদিও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের কোথাও কোথাও শনিবারই উদযাপিত হয়েছে ঈদ।

ধর্মপ্রাণরা ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঈদের নামাজ শেষে আল্লাহর পথে পশু কোরবানি করবেন। ঘরে ঘরে ত্যাগের আনন্দে মহিমান্বিত হবে মন।

জিলহজের চাঁদ ওঠার আগেই দিন ঠিক হওয়ায় কোরবানির ঈদ নিয়ে তেমন অনিশ্চয়তা থাকে না। ফলে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুতিও প্রায় আগেভাগে শেষ হয়ে যায়। কোরবানির গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ ও উট আগেই কিনে প্রস্তুত রাখেন। ঈদের দিন সামর্থবান মুসলমানরা ঈদগাহে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের পর এসব পশু আল্লাহর নামে কোরবানি করেন। আর আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের মাঝে বণ্টন করেন কোরবানির মাংস।

তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের কাছে এবারের ঈদ অনেকটা নিরানন্দের মধ্য দিয়েই উদযাপিত হবে। কারণ ভয়াবহ বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এসব এলাকার মানুষ। বানের পানিতে ভেসে গেছে অনেকের ঘর আর গোলার ধান।

ঈদুল ফিতরের পর মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা। প্রায় চার হাজার বছর আগে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে। তবে ঈদের পরও দুই দিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি দেওয়ার সুযোগ থাকে।

রবিবার সকালেই নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ আদায়ের জন্য আসবেন মুসল্লিরা। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একত্রে নামাজ আদায় করবেন। কোলাকুলির মাধ্যমে করবেন শুভেচ্ছা বিনিময়। 

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply