
স্টাফ রিপোর্টার:
অরক্ষিত ও বে-দখলের কবলে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চত্বর। সকল সরকারী ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থাকলেও নেই সীমানা প্রচীর। প্রায় দু’বছর ধরে অরক্ষিত থাকার ফলে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ধারে উপজেলা পরিষদ চত্বরের বেশকিছু সম্পত্তি বে-দখল হয়ে গেছে।
একটি অসাধুচক্র চত্বরের জায়গায় নির্মান করেছে দোকানঘর। দিব্বি ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা। প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারী সম্পত্তি বে-দখল হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ সুযোগে মাদক কারবারীরা অনেকটা নিশ্চিন্তে মাদক সেবন করে থাকেন পরিষদ চত্বরে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরের কাশিপুর মৌজার ১৩ একর ৭৫ শতক একর জমি নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর। এরমধ্যে ১৯৫ দাগের ১৩ একর ৬৪ শতক অফিস শ্রেণী ও ১৯৫ বাটা ৮৭৮ দাগে ১১ শতক কবরস্থান শ্রেণী নির্ধারিত। উপজেলা পরিষদ চত্বরে সকল সরকারী দপ্তর, কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন ও ব্যাচেলর কোয়াটার রয়েছে।
এছাড়াও, দু’টি অডিটরিয়ামসহ সরকারী গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় রয়েছে এখানে। প্রায় দু’বছর আগে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক বর্ধিতকরণের জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরের পূর্বদিকে সীমানা প্রচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগ অধিগ্রহনের আওতায় নেয় উপজেলা পরিষদের বেশকিছু জায়গা। এভাবে দির্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ সুযোগে স্থানীয় একটি অসাধুচক্র পরিষদের সম্পত্তি বে-দখল করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের পূর্বদিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক লাগোয়া সম্পত্তি বে-দখল হয়েছে। সেখানে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০টি দোকানঘর। দিব্বি ব্যবসা করে যাচ্ছেন বে-দখলকারীরা। এমনকি, ইউএনও’র পুরাতন বাসভবণের পাশে নবনির্মিত অডিটরিয়াম লাগোয়া গড়ে উঠেছে চা-সিগারেটের দোকান। ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে দোকানগুলো। রাতে বসছে মাদক কারবারীদের আস্তানা। সবচেয়ে বেশি বে-দখল হয়েছে ইউএনও’র পুরাতুন বাসভবণের প্রচীরের পূর্বদিক, উপজেলা গেট সংলগ্ন, ব্যাচেলর কোয়াটার ও প্রাণী সম্পদ দপ্তর লাগোয়া পরিষদের সম্পত্তিগুলো।
এছাড়াও, সীমানা প্রচীর না থাকায় বেশ অরক্ষিত উপজেলা পরিষদ চত্বরের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরসমূহ। যে কোন সময় চুরি-ছিনতাই ঘটার সম্ভাবণা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা মাদক কারবারীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয় উপজেলা পরিষদ চত্বর। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওভারপাস নির্মাণের ফলে রাতে ভূতুড়ে পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। একদিকে নেই সীমানা প্রচীর অন্যদিকে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। এ সুযোগে মাদক কারবারীরা অনেকটা নিশ্চিন্তে মাদক সেবন করে থাকেন পরিষদ চত্বরে।
স্থানীয় আশিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের নাকের ঢগায় সরকারী সম্পত্তি বে-দখল হচ্ছে। কিন্তু কেউ কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না। এরফলে ধিরে ধিরে পুরো এলাকা বে-দখল হতে পারে। আরেক স্থানীয় রেজাউল করীম বলেন, সরকারী সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব সরকারী কর্মকর্তাদের। তাদের জমিগুলোই যদি বে-দখল হয় তাহলে কি করার আছে!
আব্দুল মজিদ মিয়া বলেন, প্রায় দু’বছর হলেও উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রচীর নির্মাণ হয়নি। এরফলে দখলদারেরা সুযোগ পেয়েছে সরকারী সম্পত্তি বে-দখল করতে। জরুরী ভিত্তিতে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে ফেলা দরকার।
স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাদকের কারবার বসছে। প্রশাসন সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। অতিশিঘ্রই এগুলো বন্ধ করা উচিৎ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দখলদার জানান, সীমানা প্রচীর নেই, জায়গাগুলো পড়ে রয়েছে তাই দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করছি। আমাদের উঠে যেতে বললে চলে যাব।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পুনরায় যদি বে-দখলকারীরা দোকানঘর নির্মাণ করে থাকেন তাহলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার