গঙ্গাচড়ায় আশ্রয়ণকেন্দ্রে ঘর আছে লোক নেই!

কমল কান্ত রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর):

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্মিত আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রামগুলোতে ঘর আছে, লোক নেই। উপজেলার নদী ভাঙন, অসহায়, ভূমিহীন ও হতদরিদ্রদের জন্য সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের খাস জমিতে আশ্রয়ণ, আবাসন ও গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৪টি আশ্রয়ণ কিংবা আবাসন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পুনর্বাসিত হয়েছে। কিন্তু এসব আশ্রয়ণ কিংবা আবাসন কেন্দ্রে তেমন লোকজন নেই। শুধু ঘর পড়ে আছে। সরেজমিনে কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরমটুকপুর (নতুন) ও চরমটুকপুর (পুরাতন) আশ্রয়ণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যারাকে লোকজন নেই, তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। চরমটুকপুর আশ্রয়ণকেন্দ্রে মোট ১১০ পরিবার থাকার কথা। কিন্তু সেখানে রয়েছে এখন ১৫ পরিবার।

৫৩ নম্বর রুমে থাকা সেখানকার বাসিন্দা নুরজামান বলেন, লোকজন রুম দখল করে চলে গেছে। এখন কৃষি কাজের মালামাল এখানে রাখে। গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে বলেন, যারা এখানে থাকে না তাদের সবার বাড়িঘর এবং জমাজমি আছে। এ কারণে তারা এখানে থাকে না। চরমটুকপুর (পুরাতন) আশ্রয়ণকেন্দ্রের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, সুবিধা নেওয়ার জন্য অনেকে ঘর দখল করে আছে কিন্তু এখানে থাকে না। গোডাউন বাড়ি বানাইছে। সেখানে ১২০ পরিবার থাকার কথা । অর্ধেকের বেশি পরিবার এখানে থাকে না। অনেকে আবার লোন সুবিধা নিয়ে চলে গেছে।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু বলেন, আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোতে আর লোকজন থাকেন না। ফলে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি ভেস্তে যাচ্ছে। লোকজন এখন গোডাউন করেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ অফিস থেকে শুধু আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোতে মাটির কাজ করা হয়েছে। বাকি কাজ সেনাবাহিনীর লোকজন করেছে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলীমা বেগম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোতে লোকজন না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোকে অনেকে গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছে। এখানে সুবিধাভোগীর বিষয়টি স্পষ্ট।