রংপুরে অষ্টমবারের মতো জেলা ইজতেমা শুরু

নিউজ ডেস্ক:

রংপুরে অষ্টমবারের মতো শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর মহানগরীর আলমনগর স্টেশন রোডে আরডিসিসিএস মাঠে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হ‌য় ইজতেমার কার্যক্রম।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রায় এক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। ১০টি খিত্তার নিচে একসঙ্গে ৫০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ২০১০ সাল থেকে রংপুরে ইজতেমা হয়ে আসছে।

আয়োজকরা জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে রংপুর জেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেছেন। রংপুর মহানগর ও সদর উপজেলাসহ তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা এবং কাউনিয়া উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা আসছেন।

ইজতেমায় মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ চারটি দেশের তাবলিগের বিদেশি মেহমানরা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। পরবর্তীতে মাশোয়ারার ভিত্তিতে আগত আলেমরা বয়ানের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

ইজতেমা কমিটির সদস্য হফিজুল ইসলাম ব‌লেন, বুধবার বিকেল থেকে মুসল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করেন এবং রাতের মধ্যেই সবাই চলে আসেন। রাতে সবাই ইজতেমা মাঠেই অবস্থান করে‌ছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ফজর নামাজ আদায়ের পর আমবয়ান শুরু হয়। এবার রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার ৮ উপজেলার প্রায় এক লাখ মুসল্লি অংশ নিয়ে‌ছেন ইজতেমায় এবং রংপুর জেলা ব্যতীত ইজতেমায় আরো অনেক জেলার মেহমানরাও অংশ নি‌য়ে‌ছেন।

ইজ‌তেমা মা‌ঠে আসা মুসল্লি আব্দুল করিম জানান, গত রা‌তেই ইজ‌তেমার মা‌ঠে এসে উপ‌স্থিত হ‌য়ে‌ছি। আল্লাহ যেন আমাকেসহ ইজতেমার মাঠে আসা সবাইকে কবুল করে নেন। আল্লাহর রহমতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ এখন কানায় কানায় পূর্ণ হতে শুরু করেছে।

ইজতেমায় অংশ নেয়া বিদেশি মেহমান, মুরুব্বি এবং মুসল্লিদের সেবায় কয়েক শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া দূরের মুসল্লিদের পরিবহন রাখার জন্য গ্যারেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠের আশপাশে শতাধিক খাবারের দোকান বসানো হয়েছে। সহস্রাধিক বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন।

ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছেন। র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাসহ পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরাও। এছাড়া ইজতেমা সফল করতে প্রায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে স্পেশাল স্বেচ্ছাসেবক দল। এবারও ইজতেমায় যৌতুকবিহীন ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক কয়েকজনের বিবাহ সম্পন্ন হবে।

আগামী শনিবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১২টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার কার্যক্রম শেষ হবে। মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য এখান থেকে চিল্লার উদ্দে‌শ্যে কয়েক হাজার মুসল্লি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, ইজতেমার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ইজতেমা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া পুলিশের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply