
নিউজ ডেস্ক:
লালমনিরহাটে একটি পরিবারকে দুই বছর ধরে একঘরে করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অপরাধ মৌখিক তালাক দিয়ে পুনরায় সংসার করা। ওই পরিবারের কাউকে মসজিদে নামাজ পড়তে, বাজারে কেনাকাটা করতে, কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেয়া হচ্ছে না।
ঘটনাটি কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউপির শ্রীখাতা বালাপাড়া গ্রামের। ওই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশে অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা পায়নি পরিবারটি।
জানা গেছে, শ্রীখাতা বালাপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলাম ২০০৩ সালে মনজিলা বেগমকে বিয়ে করেন। বছর দুয়েক আগে দাম্পত্য কলহের এক পর্যায়ে মনজিলাকে মৌখিক তালাক দেন তিনি। এতে রাগে ভাইয়ের বাড়িতে চলে যান মনজিলা। এক মাস পর মীমাংসা হলে তারা পুনরায় বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর ভালোভাবেই সংসার শুরু করেন। কিন্তু এতে বাধ সাধেন গ্রামের কিছু প্রভাবশালী।
তাদের ভাষ্য, তালাক দেয়ার পর বিয়ে ছাড়া সংসার করা যাবে না। কিন্তু জহুরুল-মনজিলা ওই কাজই করে চলেছেন। এ কারণে তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে অবৈধ ঘোষণা করে একঘরে করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের দুই বছর ধরে গ্রামের কোথাও স্বাভাবিক চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। সামাজিক অনুষ্ঠান করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তেও বাধা দেয়া হচ্ছে। তারা অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী মনজিলা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাহে, হামার স্বামী রাগ করি তালাক দিছে। এলাকার মানুষজন এটাকে তালাক মনে করে হামাক ঠেক (একঘরে) করছে। হামার বাড়িত কাও (কেউ) আসে না। হামাকো কারো বাড়িত যাবার দেয় না। দেওয়ানিরঘর (প্রভাবশালীরা) এই ঠ্যাকার (এলাকার) দোকান থিকি (থেকে) খরচও বন্ধ করি দেছে। হামরা থানাতো জানাইছি, ওসি সাহেব কইছে (বলেছ) তার বলে কিছুই করার নাই। বাহে, দুনিয়াত কি ভালো মানুষ নাই? এমন লজ্জা নিয়া কি বাঁচা যায়? হামরা কি খুব বড় অপরাধ করছি?’
মনজিলার স্বামী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাহে, হামার মতো গরিব মানুষের সমাজে একা থাকা অনেক কষ্টকর। হামার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো সমস্যা নাই। রাগের মাথায় তালাক কথাটা না হয় কয়ায় ফেলাইছি। পরে ভুল বুঝবার পারি ফির (পরে) উয়াকে (স্ত্রীকে) বাড়িত উঠি আনছি। দেওয়ানিরঘর আল্লাহর ঘর হামার জন্য বন্ধ করি দিছে।’
কালীগঞ্জের করিমপুর নেছারিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আবু জাফর ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘সালিশে সবার উপস্থিতিতে বলেছিলাম, শরিয়ত অনুযায়ী এটা তালাক হয়নি। এলাকার লোকজনের কোরআন হাদিস সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকায় ওই পরিবারকে তারা একঘরে করে রেখেছেন।
দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান খ.ম শফিকুল ইসলাম বলেন, মনজিলা ও তার স্বামীকে একঘরে করে রাখা অমানবিক একটি কাজ। তাদের তালাক হয়নি।
লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সফুরা বেগম ডেইলি বাংলাদেশ বলেন, একঘরে করে রাখা আমাদের সংবিধান ও প্রচলিত আইনে নেই। যারা এ কাজ করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত।
লালমনিরহাটের এসপি আবিদা সুলতানা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লোকমুখে শুনে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।